খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে আটক হয়েছেন মিজানুর রহমান কফিল (৩৭) নামের এক যুবদল কর্মী। গতকাল রবিবার (৩১ মে) দুপুরের দিকে পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর যুবদল কর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখার একটি ধারণকৃত চিত্র বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক কৌতুহল ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
আটক হওয়া মিজানুর রহমান কফিল কোলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক প্রয়াত সদস্য সোলাইমান মিয়ার ছেলে বলে প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে উক্ত ব্যক্তির অনৈতিক ও পরকীয়া সম্পর্ক বজায় ছিল। গতকাল রবিবার দুপুরে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজন চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাকে আটক করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কফিলকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এই সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার একপর্যায়ে কিছু মানুষ তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরও করেন। একই সময়ে একটি তিন চাকার সিএনজিচালিত চালিত অটোরিকশায় চড়ে ওই নারীকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সামাজিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ওই যুবককে আটক করার পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কফিলের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার প্রবীণ মুরব্বিদের উপস্থিতিতে একটি জরুরি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত সালিস বৈঠকে অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা আদায় করা হয়। এরপর আটকের প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে স্থানীয়দের জিম্মাদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তখন সমগ্র এলাকায় তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামাজিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিষয়টির সামাজিক সমাধান করা হয়।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অনৈতিক সম্পর্কের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান কফিল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি মূলত তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে পারিবারিক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে অবরুদ্ধ করে হেনস্তা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলটির সাধারণ নেতাকর্মীদের একাংশ কফিলের বিরুদ্ধে দ্রুত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। পটিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী জানান, মিজানুর রহমান কফিলের বর্তমানে যুবদলের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক পদ নেই। তবে তিনি দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে পরিচিত। উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তারা অভ্যন্তরীণভাবে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
গতকাল রবিবার পটিয়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার সার্বিক চিত্র নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ঘটনার খাত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ | সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বর্তমান স্থিতি |
| অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও বয়স | মিজানুর রহমান কফিল (৩৭ বছর) |
| পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় | প্রয়াত সোলাইমান সদস্যের ছেলে এবং যুবদল কর্মী |
| ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান | ৩১ মে (রবিবার দুপুর), কোলাগাঁও ইউনিয়ন, পটিয়া |
| উত্থাপিত মূল অভিযোগের ধরন | প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক ও পরকীয়া সম্পর্ক |
| স্থানীয়দের গৃহীত তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ | আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ, মারধর এবং সালিস বৈঠক |
| সালিস বৈঠকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | তিন ঘণ্টা পর লিখিত মুচলেকা নিয়ে মুক্তি প্রদান |
| অভিযুক্তের দাবি ও বক্তব্য | রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র এবং আর্থিক লেনদেনের কাজ |
| থানা পুলিশের আইনি অবস্থান | কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জমা পড়েনি |
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।