হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তাদের মৃত্যু হয়। চলতি বছরে একই ধরনের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট বিশে।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজন হলো গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী পুত্র আয়ান। অপরজন ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী কন্যা আদিবা। দুই শিশুই হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি হওয়ার সময় থেকেই শিশু দুটির জ্বর, শরীরজুড়ে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্টসহ হাম-সদৃশ উপসর্গ ছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও অবস্থার অবনতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরে সোমবার তাদের মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
চলতি বছর ফরিদপুর অঞ্চলে হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে সময়মতো হাসপাতালে আনা হলেও জটিল অবস্থায় পৌঁছানোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা কার্যকর হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে চলমান বিশ দিনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে।
সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের মধ্যে হাম-সদৃশ কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় টিকাদান কাভারেজ কম থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
বিষয়
তথ্য
মৃত্যুর সর্বশেষ সংখ্যা
২ শিশু
চলতি বছরে মোট মৃত্যু
২০ জন
আক্রান্তের প্রধান বয়স
শিশু (৭ মাস থেকে ২ বছর)
প্রধান উপসর্গ
জ্বর, ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট
চিকিৎসা কেন্দ্র
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চলমান উদ্যোগ
বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব হয়।