খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ঈদুল ফিতরের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মালিক’ চলচ্চিত্রটি যারা দেখছেন, তাদের একটি বড় অংশের দর্শক ও সমালোচকদের মতে, এই সিনেমার গানগুলো শ্রোতাদের মনে গভীরভাবে দাগ কাটছে। চলচ্চিত্রে সচরাচর দৃশ্যমান মারদাঙ্গা অ্যাকশন এবং পারিবারিক আবেগের চমত্কার সংমিশ্রণের পাশাপাশি এর সংগীত বিভাগটি আলাদাভাবে দর্শকদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বৈচিত্র্যময় ও ভিন্ন স্বাদের মোট চারটি গান নিয়ে সাজানো হয়েছে এই চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ মিউজিক অ্যালবাম। সংগীত সমালোচকদের একাংশের অভিমত, প্রতিটি গানই সিনেমার কাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও পরিস্থিতিকে বিভিন্ন স্তরে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। গানগুলোর মাধ্যমে কখনো উৎসবের আনন্দ, কখনো রোমান্টিক প্রেম, আবার কখনো তীব্র বেদনা ও অ্যাকশনের উত্তেজনা প্রকাশ পেয়েছে। ‘মালিক’ চলচ্চিত্রের এই পুরো সংগীত বিভাগের পরিচালনা এবং সুর বিন্যাসের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন দেশের সুপরিচিত সংগীত পরিচালক আদিত রহমান।
চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পূর্বে প্রথম প্রচারণামূলক গান হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল ‘গুলগুলি পিঠা’ শিরোনামের একটি আইটেম ট্র্যাক। এই দ্রুত লয়ের ও আনন্দঘন গানটিতে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা মিলা এবং সংগীতশিল্পী প্রতিক হাসান। গানটির চমত্কার ও লোকজ ঘরানার শব্দচয়ন করে গীত রচনা করেছেন লুৎফর হাসান। ঈদের উৎসবের শুরুতে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই গানটি শ্রোতা ও দর্শকদের মাঝে তাত্ক্ষণিক ও ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শনের শেষ অংশে এই গানের তালে তালে দর্শকদের মেতে ওঠার এবং আনন্দ নৃত্য করার নানাবিধ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ দর্শক ও সংগীতপ্রেমীদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবারের ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত গানগুলোর মধ্যে উত্সবের আমেজ তৈরিতে এই গানটি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
এই বিশেষ গানটির সৃষ্টি এবং শ্রোতা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এর গীতিকার লুৎফর হাসান তাঁর অভিব্যক্তিতে জানান, এই গানটি মূলত ঈদের উত্সবের আমেজ ও সাধারণ মানুষের অনাবিল উচ্ছ্বাসকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল। দর্শক ও শ্রোতারা যেভাবে এই গানটি সানন্দে গ্রহণ করেছেন, তা পুরো সংগীত সংশ্লিষ্ট দলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।
আইটেম ট্র্যাকের তুমুল জনপ্রিয়তার পর অ্যালবামে যুক্ত হয় সম্পূর্ণ ধীর লয়ের ও মেলোডিয়াস রোমান্টিক গান ‘দিলাম তোমায় কথা’। এই প্রেমের গানটিতে সুমধুর কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন জনপ্রিয় নারী কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা এবং তাঁর সাথে সহ-শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন পারভেজ খান। গানটির গভীর ও আবেগঘন শব্দমালা রচনা করেছেন প্রখ্যাত গীতিকার আসিফ ইকবাল। প্রেম, বিরহ ও আত্মিক আবেগে ভরপুর এই গানটি শ্রোতাদের মনের ভেতরে এক মায়াবী ও স্নিগ্ধ অনুভূতির সৃষ্টি করছে।
গানটির অন্তর্নিহিত ভাব এবং দর্শক সংযোগ নিয়ে এর অভিজ্ঞ গীতিকার আসিফ ইকবাল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গানটি তৈরির মূল উদ্দেশ্যই ছিল মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভেতরের না-বলা গভীর অনুভূতিগুলোকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করা। সাধারণ শ্রোতারা যে সেই না-বলা কথার সাথে নিজেদের আবেগকে যুক্ত করতে পারছেন—এটাই একজন গীতিকার হিসেবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
‘মালিক’ সিনেমার পুরো অ্যালবামের মধ্যে তৃতীয় গান ‘দরদি মায়া লাগাইসে’ শিরোনামের ট্র্যাকটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরহপ্রধান গানটিতে অত্যন্ত দরদ দিয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন স্বয়ং সংগীত পরিচালক আদিত রহমান এবং তাঁর সাথে ফিমেল ভোকালে ছিলেন প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী দোলা রহমান। গানটির মরমী কথাগুলো যৌথভাবে সাজিয়েছেন গীতিকার রাকিব হাসান রাহুল। প্রেক্ষাগৃহ থেকে সিনেমা দেখে বের হওয়া দর্শকদের সিংহভাগের মতে, এই গানটি মানুষের জীবনের কষ্ট, গভীর ভালোবাসা এবং প্রিয়জনকে হারানোর বেদনাবিধুর অনুভূতির এক অসাধারণ মিশ্র প্রতিচ্ছবি হিসেবে রূপালি পর্দায় ধরা দিয়েছে।
অ্যালবামের একেবারে শেষ গানটি হলো এই চলচ্চিত্রের মূল নামকরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ টাইটেল ট্র্যাক ‘মালিক’। তীব্র গতি ও র্যাপ ঘরানার মিশ্রণে তৈরি এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের অন্যতম হিপহপ শিল্পী তৌফিক আহমেদ এবং তাঁর সাথে ছিলেন গায়ক দিগন্ত সামাদ। এই শক্তিশালী গানটির লিরিকস বা গীত রচনা করেছেন যৌথভাবে রাকিব হাসান রাহুল এবং তৌফিক আহমেদ নিজে। সিনেমার মূল কাহিনীতে তীব্র অ্যাকশন দৃশ্য এবং নায়কের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সাথে এই গানটি ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় পুরো সিনেমার গতিশীলতা ও দর্শকদের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত দর্শকেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
চলচ্চিত্রের সামগ্রিক সংগীত আয়োজন এবং এর নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান সংগীত পরিচালক আদিত রহমান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সম্পূর্ণ অ্যালবামটিকে তাঁরা কাহিনীর প্রয়োজনে আলাদা আলাদা মানবিক আবেগে ভাগ করে অত্যন্ত যত্নসহকারে সাজিয়েছেন। প্রতিটি গানই যেন কেবল বিনোদন নয়, বরং সিনেমার মূল গল্পের একেকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখে, সেই চেষ্টাই করা হয়েছে।