ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বুধবার সকালে স্থানীয় জনতার অবরোধ কর্মসূচির কারণে ব্যাপক যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার সঙ্গে যুক্ত ১৩টি গ্রামের দীর্ঘদিনের ভূমি জটিলতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় সকাল থেকে শত শত মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিমানবন্দর সংলগ্ন এসব গ্রামের জমি নিয়ে সমস্যা বহু বছর ধরে চলমান। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো ও টেকসই সমাধান হয়নি। ফলে জমির মালিকানা, ব্যবহার অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দিন দিন বেড়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে তারা দাবি করেন।
অবরোধকারীরা জানান, তারা বারবার শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উত্থাপন করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই সড়কে নামতে হয়েছে। তাদের প্রধান দাবি হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সকাল থেকে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। অনেকে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও তা ছিল সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। ফলে পুরো এলাকায় এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায় এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগ নেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
নিচে আন্দোলন ও দাবির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
বিষয়
বিবরণ
আন্দোলনের স্থান
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, কুমিল্লা
কারণ
কুমিল্লা বিমানবন্দর সংলগ্ন ১৩ গ্রামের ভূমি জটিলতা
মূল দাবি
জমি সমস্যার স্থায়ী ও দ্রুত সমাধান
অংশগ্রহণকারী
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ
প্রভাব
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগ
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনা ও নজরদারি
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন কার্যক্রম ও সাধারণ জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হতে পারে। তাই দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।