বিশ্বজুড়ে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রসারের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশে পাঠানো, আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটানোসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দৈনন্দিন ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশের টাকার মান জানা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক খাত সংশ্লিষ্টদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো। এসব হার বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেনে একটি সামগ্রিক ধারণা প্রদান করে, তবে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো সময় এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
| বৈদেশিক মুদ্রা |
বাংলাদেশি টাকা |
| মার্কিন ডলার |
১২১ টাকা ৬২ পয়সা |
| ইউরো |
১৪৪ টাকা ৮৫ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড |
১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি |
১ টাকা ২৫ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত |
৩০ টাকা ৬৩ পয়সা |
| সিঙ্গাপুর ডলার |
৯৫ টাকা ৯২ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল |
৩২ টাকা ৭৯ পয়সা |
| কানাডীয় ডলার |
৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার |
৮৭ টাকা ৮০ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার |
৩৯৯ টাকা ৯২ পয়সা |
বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—এসব কারণ মুদ্রার বিনিময় হারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের মান পরিবর্তিত হলে তার প্রভাব প্রায় সব দেশের মুদ্রাতেই পড়ে, যার ফলে বাংলাদেশের টাকাও তার বাইরে নয়।
প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামান্য হার পরিবর্তনও প্রবাসীদের দেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যমূল্যের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বিনিময় হারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, মুদ্রার বিনিময় হার শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং এটি একটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অবস্থানেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। তাই নিয়মিত হারের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।