খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
পিরোজপুর সদর পৌরসভা এলাকায় নদীর পাড়ে ফুল কুড়াতে গিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল গনি শিকদার (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে সদর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারকাঠি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ওই কিশোরী মুক্তারকাঠি এলাকায় বলেশ্বর নদীর পাড়ে বকুল ফুল কুড়াতে গিয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত আব্দুল গনি শিকদার কৌশলে কিশোরীটিকে তার একটি জনশূন্য ও ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে কিশোরীটির চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত আব্দুল গনি শিকদারকে আটকে রেখে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এই পাশবিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় আব্দুল গনি শিকদারকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আটককৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরীটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে জানান, তাদের বাড়ি বলেশ্বর নদীর কাছাকাছি হওয়ায় তার মেয়ে সকালে সেখানে ফুল কুড়াতে গিয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে ওঁত পেতে ছিলেন এবং সুযোগ বুঝে মেয়েটিকে তার ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে তাকেও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য |
| ভুক্তভোগী | ১৪ বছর বয়সী কিশোরী |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | আব্দুল গনি শিকদার (৬০), পিতা: মৃত সেকেন্দার আলী শিকদার |
| অভিযুক্তের পেশা | দিনমজুর |
| ঘটনার সময় ও তারিখ | শুক্রবার, ৫ জুন, সকাল আনুমানিক ৬:৩০ মিনিট |
| ঘটনাস্থল | মুক্তারকাঠি গ্রাম, ১ নম্বর ওয়ার্ড, পিরোজপুর সদর পৌরসভা (বলেশ্বর নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকা) |
| মামলার বাদী | ভুক্তভোগী কিশোরীর মা |
| আইনি থানা | পিরোজপুর সদর থানা |
| বর্তমান অবস্থা | ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরিত |
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়। আটককৃত আব্দুল গনি শিকদারকে উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।