খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ আসর শুরু হতে আর মাত্র ৬ দিন বাকি। এবারই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ৩২ দলের চিরচেনা গণ্ডি পেরিয়ে ৪৮ দলের বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। দলের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে ম্যাচের সংখ্যাও। পূর্বের ৬৪ ম্যাচের পরিবর্তে এই আসরে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বিন্যাসে যুক্ত হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা বত্রিশ দলের নতুন নকআউট পর্ব। ম্যাচের সংখ্যা এবং পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে নতুন নতুন কীর্তি গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের বহু পুরোনো এবং প্রতিষ্ঠিত কিছু রেকর্ড এই আসরে নতুন করে লেখা হতে পারে। নিচে এমন ৫টি রেকরদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যা এবার ভাঙার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ডটি এককভাবে ধরে রেখেছেন জার্মানির হেলমুট শন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে টানা ৪টি বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সর্বমোট ২৫টি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তাঁর অধীনে দলটি একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্সআপ এবং একবার তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
এবার হেলমুট শনের এই ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে সামনে আছেন ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম। ফরাসিদের প্রধান কোচ হিসেবে ১৯টি ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিমধ্যে তিনি ১৪টি ম্যাচে জয়লাভ করেছেন। এবারের আসরে ফ্রান্সের গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স যদি অন্তত দুটি ম্যাচে জয় পায়, তবে দেশম হেলমুট শনের ১৬ ম্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর ফরাসিরা নকআউট পর্ব তথা শেষ বত্রিশের ম্যাচে জয়লাভ করলেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ফুটবলার হয়ে যাবেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও বেশি ম্যাচজয়ী কোচ।
কাতার বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচে সর্বমোট ১৭২টি গোল হয়েছিল, যা ছিল একটি আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। সেবার ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ছিল ২.৬৯। এবার ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে ১০৪টি হওয়ায় মোট গোলের পূর্বের রেকর্ডটি ভেঙে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
যদি ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের মতো অতি রক্ষণাত্মক এবং ইতিহাসের সবচেয়ে কম গোল হওয়া আসরের গড়ও (ম্যাচপ্রতি ২.২১ গোল) এবার বজায় থাকে, তাহলেও ১০৪টি ম্যাচ শেষে মোট গোলের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৩০টি। ফলে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এই আসরটি পূর্বের সব রেকর্ডকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যাবে।
ফুটবল বিশ্বকাপের বিগত ২২টি আসরের দীর্ঘ ইতিহাসে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়কে মাঠে দেখা গেছে মাত্র ৭ বার। তবে এবার একক আসরেই ৪০ বছর পার করা ৮ জন ফুটবলারকে দলে দেখা যাবে।
এই তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | বর্তমান বয়স | জাতীয় দল | অবস্থান/ভূমিকা |
| ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | ৪১ বছর | পর্তুগাল | ফরোয়ার্ড |
| ক্রেইগ গর্ডন | ৪৩ বছর | স্কটল্যান্ড | গোলরক্ষক |
| মানুয়েল নয়ার | ৪০ বছর | জার্মানি | গোলরক্ষক |
| এদিন জেকো | ৪০ বছর | বসনিয়া | ফরোয়ার্ড |
| লুকা মদরিচ | ৪০ বছর | ক্রোয়েশিয়া | মিডফিল্ডার |
| ফার্নান্দো মুসলেরা | ৪০ বছর | উরুগুয়ে | গোলরক্ষক |
| গুইলার্মো ওচোয়া | ৪০ বছর | মেক্সিকো | গোলরক্ষক |
জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার করা ১৬ গোলের সর্বকালীন রেকর্ডটি এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই রেকর্ড ভাঙার মূল দাবিদার হিসেবে খেলছেন লিওনেল মেসি (১৩ গোল) ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২ গোল)। যদিও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৮ গোল), হ্যারি কেইন (৮ গোল) এবং নেইমারের (৮ গোল) সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ক্লোসার সঙ্গে তাঁদের গোলের ব্যবধান অনেক বেশি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন লিওনেল মেসির বয়স ৩৯ বছরে পদার্পণ করবে, অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের বর্তমান বয়স মাত্র ২৮ বছর। কাতার বিশ্বকাপে এমবাপ্পে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৮টি গোল করেছিলেন এবং মেসি করেছিলেন ৭টি গোল। এই দুই তারকার যেকোনো একজন যদি গত আসরের অর্েক গোলও করতে পারেন, তবে ক্লোসার রেকর্ডটি এই আসরেই ভেঙে যাবে। মেসি এবার রেকর্ড নিজের করে নিলেও এমবাপ্পের সামনে বয়সের কারণে ভবিষ্যতেও সুযোগ থাকবে, তবে ফরাসি ফরোয়ার্ড চাইলে এই আসরেই শীর্ষস্থান দখল করতে পারেন।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে মাত্র ২০ বছর বয়সে ৫টি গোল করে জার্মানির টমাস মুলার সবচেয়ে কম বয়সে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার এই রেকর্ড ভাঙার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের। ইয়ামাল ইতিমধ্যে স্পেনের ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এর পাশাপাশি, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মাত্র ২১ বছর বয়সে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার (গোল্ডেন বল) জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো। স্পেনের ইয়ামাল কিংবা তাঁর সমসাময়িক তরুণদের দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মুলার ও রোনালদোর এই দুটি ঐতিহাসিক যুব-রেকর্ডও এবার হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।