খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (৬ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত এই চিকিৎসককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে তাকে আটক দেখায়। আটককৃত অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক আত্তাব হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশু শিক্ষার্থী তার অসুস্থ দাদির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে পল্লী চিকিৎসক আত্তাব হোসেনের ফার্মেসিতে বা দোকানে যায়। ওষুধ কিনতে যাওয়ার পর সেই সময়ে দোকানে অন্য কোনো গ্রাহক বা মানুষ না থাকার সুযোগ গ্রহণ করেন অভিযুক্ত আত্তাব হোসেন। তিনি সুকৌশলে ওই শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর শিশুটি নিজ বাড়িতে ফিরে আসার পর তার শারীরিক ও মানসিক আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। তার এই আকস্মিক ও পরিবর্তিত আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন তাকে এই বিষয়ে কোমল ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে একপর্যায়ে শিশুটি পল্লী চিকিৎসক আত্তাব হোসেন কর্তৃক ঘরের ভেতর ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি পরিবারের নিকট স্পষ্টভাবে স্বীকার করে।
ধর্ষণের এই ঘটনাটি স্থানীয় সমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ঘটনার পর পরই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা সংঘটিত হয়ে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক আত্তাব হোসেনকে তার দোকান সংলগ্ন এলাকায় অবরুদ্ধ ও আটকে রাখে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত আত্তাব হোসেনকে উদ্ধার করে সরাসরি থানায় নিয়ে আসে।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশু এবং তার পরিবারের সদস্যরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে, শিশুটিকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং তারা এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম এই বিষয়ে জানান, শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বাহ্যিক আলামত পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি চিকিৎসাগতভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর বা রেফার করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ধর্ষণের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসককে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পরীক্ষাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং পরিবারের সুনির্দিষ্ট এজাহারের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীর শাস্তির দাবিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।