খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসার কারণে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত বহুল আলোচিত ঋণ সমঝোতা বা বিদ্যমান কর্মসূচির পুরোনো কাঠামো ধরে নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার আর কোনো আইনি ও কৌশলগত সুযোগ নেই বলে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদর দপ্তরে আয়োজিত একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার যোগাযোগ পরিচালক জুলি কোজাক বৈশ্বিক গণমাধ্যমের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক অর্থনীতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে যেহেতু আমূল পরিবর্তন এসেছে, তাই পুরোনো শর্ত বা রূপরেখা বহাল রেখে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এই কারণে বাংলাদেশের বর্তমান নতুন প্রশাসনের সাথে সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থায়ন কর্মসূচি নিয়ে অনতিবিলম্বে আলোচনা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সংস্থাটি মনে করে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের যোগাযোগ পরিচালক জুলি কোজাক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। নিচে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ এবং সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ | আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার |
| ১ | অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি | দেশের নিজস্ব আয়ের উৎস ও কর আহরণ প্রক্রিয়া জোরদার করা। |
| ২ | ব্যাংকিং খাতের সুশাসন | ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করে স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা। |
| ৩ | মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ | সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। |
| ৪ | আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা | দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী ও টেকসই করা। |
| ৫ | অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন | দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। |
রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের পরেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না, বরং ভবিষ্যতে এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে কাটিয়ে ওঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করার পূর্ণ ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সবসময় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, খুব শীঘ্রই ঢাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন মিশন বা প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। এই প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবে। আসন্ন এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক খাতের অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারের বিষয়গুলোই আলোচনার শীর্ষে থাকবে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই নতুন অর্থায়ন কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।