খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্রতর হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা গিয়েছিল; মে মাসের এই হার সেই সময়কালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাল। সরকারি এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে টানা দুই মাস ধরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
সরকার কর্তৃক এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রভাব দেশের সামগ্রিক বাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে পরিলক্ষিত হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একদফা বৃদ্ধি করা হয়। তবে গত ৩১ মে তারিখে যে দ্বিতীয় দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, তা মে মাসের মূল্যস্ফীতি গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য পরিবহন খরচ এবং বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রত্যক্ষ খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির এই যৌথ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি জুন মাসে মূল্যস্ফীতির সূচক আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক খাতের ব্যক্তিরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশে। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই মূল্যস্ফীতি আরও বেশি ছিল, যার পরিমাণ ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। বর্তমানে দেশের গ্রামীণ ও নগর অঞ্চল—উভয় ক্ষেত্রেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপর বজায় রয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় চালের দামও প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ($৯.৪২\%$) মজুরি বৃদ্ধির হারের ($৮.২১\%$) তুলনায় ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি ছিল।
যখন মূল্যস্ফীতি বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির হার সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যায়, তখন জনগণের প্রকৃত আয় মূলত হ্রাস পায়। আয় ও ব্যয়ের এই অসমতার কারণে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর খরচের চাপ তীব্রতর হয়েছে। বাড়তি ব্যয়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে যাতায়াত, পোশাক ও দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে বিভিন্ন খরচ কাটছাঁট করতে হচ্ছে অথবা ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।
নিচে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রদত্ত মে মাসের মূল্যস্ফীতি, মজুরি সূচক এবং এপ্রিল মাসে পরিবর্তিত জ্বালানি তেলের মূল্যতালিকা টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| অর্থনৈতিক সূচক ও খাতের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট হার ও পরিসংখ্যান |
| মে মাসের সার্বিক মূল্যস্ফীতি | ৯.৪২ শতাংশ (১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ) |
| খাদ্য মূল্যস্ফীতি | ৯.০৬ শতাংশ |
| খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি | ৯.৭১ শতাংশ |
| জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার | ৮.২১ শতাংশ |
| মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির ব্যবধান | ১.২১ শতাংশ (মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি) |
| জ্বালানি তেলের ধরণ | ১৯ এপ্রিলের পূর্বের মূল্য (প্রতি লিটার) | ১৯ এপ্রিলে নির্ধারিত নতুন মূল্য (প্রতি লিটার) | মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ (প্রতি লিটার) |
| ডিজেল | ১০০ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫ টাকা |
| কেরোসিন | ১১২ টাকা | ১৩০ টাকা | ১৮ টাকা |
| অকটেন | ১২০ টাকা | ১৪০ টাকা | ২০ টাকা |
| পেট্রোল | ১১৬ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৯ টাকা |