ড. মীজানুর রহমান
প্রকাশ: ৮ই জুন ২০২৬, ৯:১৯ এএম
[ ” শহরের তামাম ইঁদুরেরা যে যার অন্ধকার গর্ত, কুঠুরি, সেলার কিংবা সুড়ঙ্গ ছেড়ে দলে দলে আলোতে বেরিয়ে আসতে শুরু করল। তারা যেন এক অদৃশ্য ইশারায় রাজপথে এসে আছড়ে পড়ছে, কাঁপছে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে … ” ]
ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কামু তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “দ্যা প্লেগ” (The Plague) -এ একটি শহরের পতনের সূচনা এভাবেই চিত্রায়িত করেছিলেন। বিশ্ব সাহিত্যের সেরা উপন্যাসগুলোর একটি হচ্ছে কামুর “The Plague”। উপন্যাসের ওরান শহরটি যেভাবে আচমকা ইঁদুরের উপদ্রব ও মহামারীর কবলে পড়েছিল, একবিংশ শতাব্দীর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান মেগাসিটি ঢাকা আজকে যেন এক অলিখিত নাটকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে ঢাকার গল্পটা কোনভাবেই ফরাসি শহরের কাল্পনিক আখ্যান নয় বরং এক নির্মম বাস্তবতা। জর্জ অরওয়েল তাঁর রাজনৈতিক উপন্যাস “1984” – এ ইঁদুরকে ব্যবহার করেছেন মানুষের বড় মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের রূপক হিসেবে। উপন্যাসের বিখ্যাত “রুম-১০১”-এ বন্দীদের মুখ ইঁদুরের খাঁচায় ঢুকিয়ে টর্চার করা হতো।
“দ্যা পাইড পাইপার অফ হ্যামিলন” জার্মান ঐতিহ্যবাহী লোকগাথা ; ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্প। পুরো হ্যামিলন শহর যখন ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ তখন এক রহস্যময় বাঁশিওয়ালা তার বাশির সুরে সব ইঁদুরকে নদীতে ডুবিয়ে মারে। “Ratman’s Notebooks” স্টিফেন গিলবার্ট এর একটি মনস্তাত্ত্বিক হরর উপন্যাস। যেখানে এক নিঃসঙ্গ যুবক ইঁদুরেরা এক বিশাল বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং নিজের শত্রুদের উপর প্রতিশোধ নিতে তাদের লেলিয়ে দেয়। পিকচার এমিনেশন স্টুডিও’র Ratatouille সিনেমাটি অস্কার বিজয়ী (২০০৭) এবং বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছবি। প্যারিসের শহরের ড্রেনের এক ইঁদুর (রোমিও ) কিভাবে তার প্রখর ঘ্রাণশক্তি ও রান্নার প্রতিভা দিয়ে শহরের এক নামি রেস্তোরাঁর প্রধান শেফ হয়ে ওঠে তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। “The Rat Catcher ” বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক ওয়েস আন্ডারসন নির্মিত এবং রোয়াল্ড ডাল এর গল্প অবলম্বনে তৈরি একটি অসাধারণ শর্ট ফিল্ম। এতে দেখানো হয়েছে একজন অদ্ভুত ইঁদুর শিকারি ইঁদুর মারার জন্য নিজেই ইঁদুরের মত আচরণ শুরু করেছে।
আমাদের আজকের ঢাকার ইঁদুর কাহিনীটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে আজকের প্রধান শিরোনাম ছিল :
” ঢাকায় ইঁদুরের বংশবিস্তার : বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি” । “ঢাকার অলিগলি,কাঁচাবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ড্রেন ও আবাসনের আশেপাশে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। দিনের বেলায়ও খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া এসব প্রাণী নগরবাসীর জন্য শুধু বিরক্তির কারণেই নয়, বরং একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত। …হান্টা ভাইরাস ছাড়াও ইঁদুর থেকে অন্তত ৬০ ধরনের রোগ বিভিন্ন ভাবে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে, যার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে নগর এলাকায় বসবাসরতদের ক্ষেত্রে” ( দৈনিক বণিক বার্তা, ৬ জুন ,২০২৬ )।
৪০০ বছরের পুরনো শহর ঢাকা নগরী আজ আকাশচুম্বী বহুতল ভবন, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে আর মেট্রোরেলের শহর। বিশেষ করে বিগত দেড় দশকে ঢাকা শহরের অবকাঠামোতে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু চাকচিক্যের আড়ালে এক অদৃশ্য সুরঙ্গ তৈরি করেছে যা এই মেট্রোপলিটনকে রূপান্তর করছে এক ইঁদুরের উপদ্রবগ্রস্ত শহর ” র্যাট্রোপলিটন”( Ratropolition ) – এ। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ” ইঁদুর” ছোটগল্পে এই প্রাণীর উপদ্রবকে দেখিয়েছেন গ্রামীণ দারিদ্রদ, মানুষের মনের হিংসা ও ভেতরকার কুৎসিত রূপের প্রতীক হিসেবে। সোমেন চন্দের গল্পে ইঁদুর ছিল নাগরিক নিম্নবিত্তের চরম অভাব ও জরাজীর্ণ পরিবেশের এক অবদমিত রূপক। কিন্তু আজকের মেগাসিটি ঢাকায় ইঁদুরেরা এই জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়া কেবল কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর দারিদ্র্যের প্রতীক নয় ; এটা সামগ্রিক নগর পরিকল্পনা ভেঙ্গে পড়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের অবিচারের এক জীবন্ত দলিল। প্রকৃতির বিনামূল্যে ‘ঝাড়ুদার’ কাক আজ ঢাকা থেকে নির্বাসিত। জলাশয়ের প্রাকৃতিকভাবে ইঁদুর-শিকারি গুইসাপ বা মেছো বাঘ বা বেড়ালেরা আজ মানুষের নিষ্ঠুরতায় বিলুপ্তপ্রায়। ফলস্বরূপ, মানুষের তৈরি কংক্রিটের জঙ্গল ও আবর্জনার বাগার এখন পুরোপুরি ইঁদুরের সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কামুর উপন্যাসে ইঁদুরের এই দলবদ্ধ আগমন ছিল আসন্ন এক ধ্বংসের পূর্বাভাস। ঢাকার রাজপথে, ড্রেনে , কিংবা আধুনিক ভবনের সিলিংয়ে ইঁদুরের এই অবাধ বিচরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিবেশের ভারসাম্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কোন শহর কখনো প্রকৃত মেট্রোপলিটন হয়ে উঠতে পারে না।
ঢাকার মাটির ওপরে যেমন কোটি মানুষের কোলাহল আর ব্যস্ততা, মাটির নিচে ড্রেন, সুয়ারেজ লাইন এবং ইউটিলিটি টানেলগুলোতে গড়ে উঠেছে এক বিশাল সমান্তরাল শহর। ২০০৬ সালের বিখ্যাত অমিনেটেড চলচ্চিত্র “ফ্ল্যাশড অ্যাওয়ে” (Flushed Away ) -তে দেখানো হয়েছিল লন্ডনে মাটির নিচের এক কাল্পনিক জগতের গল্প। মানুষের অলক্ষ্যে শুয়ারেজ লাইনের ভেতর ইঁদুরেরা গড়ে তুলেছিল ‘র্যাট্রোপলিশ’ নামের এক ব্যস্ত শহর । চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দার কল্পকাহিনী আজ ঢাকাবাসীর জন্য এক রূঢ় ও নির্মম বাস্তবতা। চলচ্চিত্রের সেই ইঁদুরদের মতোই ঢাকার ভূগর্ভস্থ বাসিন্দারা আজ আর মাটির নিচে সীমাবদ্ধ নেই। পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি গলি, কাওরান বাজারের আড়ত কিংবা মতিঝিলের বাণিজ্যিক এলাকা পেরিয়ে এরা ঢুকে পড়েছে গুলশান-বনানীর মত এলাকার আধুনিক বহুতল ভবনের ফলস সিলিং, এসির ডাফ্ট, কিংবা রান্না ঘরে। মানুষের তৈরি বর্জ্য আর অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে মাটির নিচের রেট্রোপলিটন উপরের মেট্রোপলিটনকে গিলে খেতে উদ্যত হয়েছে।
একটি সুস্থ্য নগরীর শহুরে প্রতিবেশ (urban ecosystem) সবল থাকা জরুরী। ঢাকা থেকে কাকের বিদায় ইঁদুরের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে দিনের বেলায় কাক ও চিল আবর্জনার স্তূপের উপর নজরদারি করত এবং ছোট ইঁদুর বা তাদের ছানা শিকার করত। এখন উঁচু গাছের অভাব, মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর রেডিয়েশন এবং ফরমালিন যুক্ত বিষাক্ত বর্জ্য খেয়ে কাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমে গেছে। ফলে ডাস্টবিনগুলোতে খাদ্যের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ইঁদুরেরা একচেটিয়া পুষ্টি গ্রহণ ও বংশবিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে (রাজনীতিতে বড় দলের অনুপস্থিতিতে যেমন করে গর্তের দল শক্তি প্রদর্শন করে)। উন্নত দেশে আধুনিক মেট্রোপলিটনের পরিচ্ছন্নতার জন্য দামি ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’ ব্যবহার করে। কাক হল ঢাকা শহরের প্রতিবেশে প্রাকৃতিকভাবে নিথরচায় পাওয়া এক স্মার্ট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। মানুষের ফেলা পচনশীল বর্জ্য যেখানে ব্যাকটেরিয়ার কারখানা তৈরি করে, কাকেরা তাদের ডানা আর ধারালো ঠোঁট দিয়ে সেই কারখানাকে মুহূর্তেই গুড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এরা আমাদের শহরের এক অদৃশ্য এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (Air Defence System)। মাটির নিচে বা ড্রেনের গর্ত থেকে ইঁদুরের দল যখনই দিনের আলোতে মাটির উপর মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আকাশের অতন্দ্র প্রহরীরা উপর থেকে বাজপাখির মত ইঁদুর ধরে নিয়ে যায়। রাতের বেলায় একই কাজ করে পেঁচা। কাক, চিল ও পেঁচার সংখ্যা বাড়ানো মানে হল ইঁদুরের বিরুদ্ধে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সচল করা।
কামুর উপন্যাসে ইঁদুর যেভাবে মহামারী প্লেগ এনেছিল, ঢাকাতেও ইঁদুর নীরব ঘাতক হিসেবে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গ্রীক পুরাণের সেই বিখ্যাত ট্রোজেন হর্সের কথা আমাদের সবার জানা আছে। টয় নগরীর মানুষ যাকে কাঠের তৈরি এক নিরীহ উপহার হিসেবে মনে করে ভেতরে এনেছিল, রাতের অন্ধকারে তার পেট থেকেই বেরিয়ে এসেছিল একদল খুনি সৈনিক, যারা ধ্বংস করেছিল পুরো শহরকে। ঢাকার শহরের প্রতিবেশে ইঁদুর তেমনি একটি ট্রোজেন হর্স। আমরা আপাতদৃষ্টিতে এদের কেবল রান্না ঘরের উৎপাত কিংবা শস্য নষ্টকারী এক সাধারণ জীব মনে করে এড়িয়ে যাচ্ছি, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে আসলে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি এক জীবন্ত টাইম বোম। ইঁদুরের শরীর ও মলমূত্র বহন করছে লেটেস্টোস্পাইরোসিস, সালমোনেলোসিস কিংবা scrab typhus এর মত মারাত্মক সব রোগের জীবাণু। বর্ষাকালে ঢাকার রাস্তায় যখন হাঁটু বা কোমর পানি জমে তখন ইঁদুরের মূত্র মিশ্রিত সেই পানি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে অলক্ষ্যে লিভার ও কিডনি বিকল করে দেয় । আমরা আসলে এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে আমাদের মেট্রোপলিটনের বড়াই করছি, যার মাটির নিচে বিষাক্ত লাভা হলো এই লাখ লাখ ইঁদুর। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোন মুহূর্তে এই স্বাস্থ্য বিপর্যয় পুরো শহরকে এক অবর্ণনীয় মহামারীর মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি এবং জলবায়ু ইঁদুরের বসবাসের এবং বংশবিস্তারের অনুকূল। পৃথিবীতে প্রায় ২৭০০ বা তারও বেশি প্রজাতির ইঁদুর জাতীয় প্রাণী শনাক্ত করা গেছে। আমাদের দেশের প্রজাতিগুলোর মধ্যে এমন ইঁদুরও আছে যাদের এক জোড়া ইঁদুর থেকে বছরে চক্রবৃদ্ধি হারে গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যন্ত ইঁদুর জন্ম হয়। এদের সংস্পর্শে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এ ঝুঁকির মাত্রা আরো বেশি, যা আমরা ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরিত্রাণের উপায় কি ? উত্তর দুইটা- পালিয়ে যাওয়া অথবা তাড়িয়ে দেওয়া। ইঁদুরের ভয়ে ঢাকা শহর থেকে আমাদেরকে পালিয়ে যেতে হবে এটা তো ভাবাই যায় না। অতএব একমাত্র উপায় হচ্ছে ইঁদুর তাড়ানো অথবা অন্তত এদের সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করা।
বিশ্বের অন্যান্য বড় মেগাসিটিগুলোর তুলনায় ইস্তাম্বুল শহরে ইঁদুরের উপদ্রব একেবারেই নগণ্য, চোখে পড়ার মত নয়। নিউইয়র্ক, প্যারিস বা লন্ডনের মত শহরগুলো যেখানে ইঁদুরের যন্ত্রণায় জর্জরিত সেখানে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় বা প্রকাশ্যে ইঁদুর ঘুরে বেড়াতে দেখা অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। ইস্তাম্বুলকে বলা হয় বিড়ালের শহর (Catstanbuls)। এই শহরের রাস্তায় দেড় লক্ষ বিড়াল স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। যদিও এখানকার মানুষ বিড়ালদের নিয়মিত খাবার দেয় ( বিড়ালগুলো ইঁদুর খেয়ে বাঁচে না ), তারপরও বিড়ালের উপস্থিতি ও এবং গায়ের গন্ধ ইঁদুরের জন্য একটি প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে। বিড়ালের ভয়ে ইঁদুররা মূল রাস্তায় বা রেস্তোরাঁগুলোর আশেপাশে আসার সাহস পায় না। তুর্কি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উচ্চমাত্রার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, রাস্তায় খোলা খাবার বা আবর্জনা না ফেলা, এবং দ্রুত পরিষ্কার করা। ইঁদুররা সহজে খাবারের সন্ধান পায় না। ঢাকায় আধুনিক বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করা গেলে বিড়ালের সংখ্যা বাড়িয়েও ইঁদুর কমানো যাবে না। কারণ আমরা যেভাবে খোলা জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলি বা স্তূপ করে রাখি, এতে বিড়াল এবং ইঁদুর উভয়ই প্রচুর খাবার পাবে। উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাবার উভয় প্রজাতি ভাগাভাগি করে খেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে ফেলবে। বর্জ্য থেকে ইঁদুর খাবার না পেলে তাদের সংখ্যা এমনিতেই কমবে। একইভাবে বিড়ালের সংখ্যা বাড়লে তাদেরও খাবারের টান পড়লে কিছু বিড়াল ইঁদুর মেরে খাবে। তাছাড়া বিড়ালের তাড়া খেয়ে এবং বিড়ালের উপস্থিতির কারণেই কিছু ইঁদুর পালাবে।
১৯৭০ এর দশকে প্রথম যখন ঢাকায় এসেছিলাম তখন ঢাকাকে মনে হয়েছিল “কাকের শহর”। গ্রামাঞ্চলে যে ধরনের কাক দেখা যায় তারচেয়ে ঢাকার কাক ছিল একটু ভিন্ন। গ্রামের বসবাসকারী কাকগুলো দাঁড় কাক। ঢাকার রমনা পার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু দাঁড় দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো ঢাকায় বসবাসকারী পাতি কাকের চেয়ে বড়, কুচকুচে কালো, ঠোঁট অনেক বেশি ভারী ও বাঁকানো, গলার স্বর পাতি কাকের চেয়ে বেশ গম্ভীর ও কর্কশ। ঢাকায় বসবাসকারী পাতিকাকগুলোর ঘাড়,গলা ও বুকে ধূসর বা ছাই রঙের একটি আবরণ থাকে। এদের গায়ের রং কুচকুচে কালো নয় , অনেকটা ধূসর রঙের ; আকারেও দাঁড় কাকের চেয়ে ছোট । তবে শহুরে পাতিকাকগুলো মানুষের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। ঢাকার আকাশে তখন প্রচুর চিল দেখা যেত, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অসংখ্য চিলের আবাস ছিল। জগন্নাথ হল ও শামসুন্নাহার হল এলাকায় খুব উঁচু কয়েকটি গাছ ছিল । সন্ধ্যা হলেই অসংখ্য চিল এই গাছগুলোতে এসে বসত। এখন ঢাকার আকাশে চিল দেখা খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার। কাকের সংখ্যাও এত সীমিত যে খুব কমই এখন কাক চোখে পড়ে। লক্ষ্মী পেঁচা দেখার জন্য একমাত্র চিড়িয়াখানা যাওয়া ছাড়া এখন আর কোন উপায় নেই। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং পুরনো ঢাকায় প্রচুর লক্ষ্মী পেঁচার বসবাস ছিল। কাক ও চিলের সৌখিন খাবার ছিল ইঁদুর এবং ইঁদুরের বাচ্চা। দিনের বেলায় কাক ও চিলের ভয়ে ইঁদুর গর্ত থেকেই বের হতো না। রাতে বের হলে পেঁচার শিকারে পরিণত হতো। প্রাকৃতিক উপায়ে ইঁদুরের সংখ্যা সীমিত করতে চাইলে অন্যতম একটি উপায় হবে ঢাকায় কাক-চিল ও পেঁচার সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এর জন্য শহরের বিভিন্ন জোনে উঁচু ‘পকেট ফরেস্ট’ বা ‘গ্রিন জোন’ তৈরি করা। কাক-চিল প্রধানত বড় ও উঁচু গাছে ( রেইনট্রি, বট, কড়ই ) বাসা বাঁধে। উঁচু গাছ লাগানোর জন্য বনবিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনকে ভূমিকা নিতে হবে। ঢাকায় কাক কমে যাওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো ডাস্টবিনে ফেলা রাসায়নিক ও বিষাক্ত বর্জ্য । বর্জ্যে উচ্ছিষ্ট খাবার ও রাসায়নিক আলাদা করা নিশ্চিত করা গেলে কাক নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাবার পাবে এবং তাদের মৃত্যুর হার কমবে। ঢাকায় লক্ষ্মী পেঁচার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিড়াল বা কাকের চেয়ে ইঁদুর নিধনে লক্ষ্মী পেঁচা শতগুণ কার্যকর। বেশিরভাগ সময়ে ইঁদুর রাতেই গর্ত থেকে বের হয়ে আসে। নিশাচর লক্ষ্মী পেঁচা তখন নিখুঁতভাবে ইঁদুর শিকার করতে পারে। ভবনের চিলেকোঠায়, ব্যালকনিতে, অন্ধকার কোণে বা পার্কের গাছে কাঠের তৈরি বিশেষ ‘owl box’ ঝুলিয়ে দিলে পেঁচারা সেখানে বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করতে পারবে। এসির আউটডোর ইউনিট এবং বিলবোর্ডের পেছনে পেঁচাদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়া যেতে পারে। বিষাক্ত কীটনাশক ও ইঁদুর মারার জন্য বিষ ব্যবহার করলে মরা ইঁদুর বা পোকামাকড় খেয়ে কাক-চিল ও পেঁচা সেকেন্ডারি বিষক্রিয়ায় মারা যেতে পারে। মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শহরে কাক-চিল জাতীয় পাখি কমে যাওয়ার বড় কারণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারের উচ্চ বিকিরণ। আন্তর্জাতিক নিয়মের মধ্যে রেডিয়েশন সীমিত করা না গেলে পাখির প্রজনন ও ওড়ার দিকভ্রান্ত হওয়া রোধ করা যাবে না। শহরে কাকের সংখ্যা কমে গেলে উচ্ছিষ্ট খাদ্যের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা কমে যাবে এবং সব খাবার ইঁদুর একাই খাবে। দিনের বেলাতেও ইঁদুরের অবাধ বিচরণ ঠেকানো যাবে না, কারণ কাক না থাকায় ইঁদুর কাউকে ভয় করবে না।
ঢাকার ভেতরের জলাশয় (যেমন – হাতিরঝিল, ধানমন্ডি ও গুলশান লেক) এবং চার পাশের নদীগুলোতে (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ,শীতলক্ষা ) নির্দিষ্ট কিছু মাংসাসি ও শিকারী প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানো গেলে ঢাকা শহরে ইঁদুরের সংখ্যা প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কমে আসবে। ঢাকার সাভার,আশুলিয়া বা ডেমরার জলাভূমিতে মেছো বিড়াল বা মেছো বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এশীয় ডোরাকাটা গুইসাপকে প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলা হয়। এরা ড্রেন, কালভার্ট ও গর্তের ইঁদুর খুঁজে বের করে খায়। হাতিরঝিল ও অন্যান্য লেকে এদের সংখ্যা বাড়ানো গেলে আশেপাশের এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব কমে আসবে। উদবিড়াল বা ভোদড় (Otter) অত্যন্ত চটপটে, এরা পানির পাশাপাশি স্থলেও সমান দক্ষতায় শিকার করতে পারে। নদীর পাড়ে বা নৌকাঘাটের ইঁদুর দমনে এরা বেশ কার্যকর হতে পারে। এছাড়া বিষহীন কতগুলো সাপ আছে যারা মানুষের কোন ক্ষতি করে না কিন্তু ইঁদুর দমনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- দারাশ সাপ, ঘর গিন্নি সাপ, দুধরাজ বা তামাটে সাপ, জলঢোড়া সাপ ও মেটে সাপ। এসকল সাপের কোন বিষ নেই, সাধারণত কখনো মানুষকে কামড়ায় না। ইঁদুর দমনে এরা দারুন ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিটি সাপ বছরে কয়েক শত ইঁদুর খায়। অহেতুক ভয় পেয়ে কেউ যেন এই সাপগুলোকে না মারে সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে হবে। জলজ প্রাণী ও সাপের সংখ্যা বাড়ানোর উপায় হচ্ছে- পানির দূষণ কমানো, কংক্রিটের পাড় নির্মাণ বন্ধ করা এবং এগুলোকে পিটিয়ে মারা বন্ধ করা।
জীববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী বেজি (নেউল) হল একটি অত্যন্ত দক্ষ প্রাকৃতিক ইঁদুর শিকারি (Predator)। ইঁদুর ও ইঁদুরের বাচ্চা বেজির অন্যতম প্রধান প্রিয় খাদ্য। গবেষণায় দেখা গেছে কোন এলাকায় বেজির উপস্থিতি ও গন্ধ থাকলে ইঁদুররা ভয়ে সেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানে ফিরে আসে না। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের মত উন্নত শহরেও ইঁদুর দমনে বর্তমানে প্রশিক্ষিত বেজি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। বেজি সাধারণত মাটির গর্ত, ঝোপঝাড় ও পুরানো ইটের স্তূপে বাস করে। ঢাকায় বেজির টিকে থাকার পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই । আরেকটা সমস্যা হচ্ছে ইঁদুরের প্রজনন ক্ষমতা বেজির চেয়ে অনেক বেশি। ঢাকায় শুধু বেজির সংখ্যা বাড়ালেই ইঁদুর দমন নাও হতে পারে, ইঁদুরের সংখ্যা অল্প কিছু কমানো যেতে পারে।
বেজির মত শিয়ালও দক্ষ ও অন্যতম প্রাকৃতিক ইঁদুর শিকারি। শিয়ালের খাদ্যাভ্যাসের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ইঁদুর, ছুঁচো এবং মুষিক জাতীয় প্রাণী। শিয়াল চতুর এবং এদের শ্রবণশক্তি অত্যন্ত তীব্র। এরা খুব সহজেই ইঁদুরের নড়াচড়া টের পায় এবং দ্রুত গর্ত খুঁড়ে বা লাফিয়ে ইঁদুর শিকার করতে পারে। তবে শহরাঞ্চলে শিয়ালের বাসস্থানের বড়ই অভাব। খাদ্যের জন্য মানুষের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। শিয়ালকে তার উপযুক্ত বাসস্থান এবং বিকল্প খাদ্য দিতে হবে। ঢাকায় শিয়াল ফিরিয়ে আনা কঠিন হলেও ফসলের মাঠ ও গ্রামে ইঁদুর মারার জন্য তারা অত্যন্ত কার্যকর।
শহরাঞ্চলে পাখি, বেজি, শিয়াল ও অন্যান্য জলজ মাংসাশী প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানোর কাজটি মোটেই সহজ নয়। এজন্য নাগরিক উদ্যোগ, ব্যাপক প্রচারণা এবং বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন হবে।
ঢাকা শহরে ইঁদুরের উপদ্রব প্রাকৃতিকভাবে ঘটেনি, মানুষের তৈরি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গলদ একে আমন্ত্রণ জানিয়েছে । ঢাকার রাস্তার খোলা ডাস্টবিন এবং গভীর রাত পর্যন্ত এমনকি সকাল পর্যন্ত পচনশীল খাবারের বর্জ্য ফেলে রাখা ইঁদুরের প্রধান ‘ফুড-কোর্ট’ । সিঙ্গাপুর বা টোকিও এর মত শহরে যেখানে রাতারাতি বর্জ্য সিল্ড কনটেইনারে সরিয়ে নেয়া হয় সেখানে ঢাকা শহরের বর্জ্য ইঁদুরকে ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত ‘বুফে’ উপহার দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ হচ্ছে সমন্বিত পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (IPM)। এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় খোলা ডাস্টবিন প্রথা বিলুপ্ত করে প্লাস্টিকের সিল্ড ড্রাম ব্যবহার করা হয়। ডাস্টবিনের খাবার খেতে না পারলেই ইঁদুর কমে যাবে। ভবন নির্মাণের সময় মাটির নিচের ড্রেনগুলোতে ‘ওয়ান ওয়ে ক্লাপ ভালভ’ এবং স্টিল ম্যাশ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ভবনের বেসমেন্ট ও সংযোগস্থল সিল করার ব্যবস্থা করতে হবে। গুদামঘরে প্যাটেল এবং মেকানিক্যাল ট্র্যাপ ব্যবহার করতে হবে। ইঁদুর পুদিনা পাতার তীব্র গন্ধ সহ্য করতে পারে না। ঢাকা শহরের পার্ক, বাগান ও বাড়ির আঙিনায় ব্যাপকভাবে পুদিনা পাতা চাষ করা গেলে অন্তত কিছু ইঁদুর ঢাকা শহর থেকে পালাবে।
নিউইয়র্ক সিটি বর্তমানে ইঁদুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সনাতন পদ্ধতির পরিহার করে আধুনিক কৌশল বেছে নিয়েছে । স্মার্ট ডাস্টবিন এবং লককরা আবর্জনা বাক্স ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বাইরেও আধুনিক কিছু কৌশল তারা প্রয়োগ করছে। ২০২৫-২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে Flaco’s Law এর অধীনে ইঁদুরের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করার জন্য মিষ্টি স্বাদের বিশেষ গর্ভনিরোধক বড়ি বা তরল টোপ ব্যবহার শুরু করেছে। এতে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ধরনের ইঁদুরের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে অবিশ্বাস্যভাবে ইঁদুরের জন্মহার কমানো গেছে। এছাড়াও ইঁদুরের গর্ত খুঁজে সেখানে বিশেষ মেশিনের সাহায্যে কার্বন-মনোক্সাইড গ্যাস প্রবেশ করিয়ে মাটির ভেতরের ইঁদুর যন্ত্রণাহীনভাবে দ্রুত মারার কৌশল প্রয়োগ করছে। প্যারিস শহর স্মার্ট ট্র্যাকিং, সেন্সর বিন, যান্ত্রিক ও গভীর ফাঁদ ব্যবহার ছাড়াও ইঁদুরের সাথে সহঅবস্থান ও অহিংস নীতি গ্রহণ করেছে। ইঁদুর বিলুপ্ত না করে সংখ্যা কামানোর উপর জোর দিচ্ছে, যাতে প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। লন্ডনে এআই সংযুক্ত থার্মাল ক্যামেরা ও সেন্সর ব্যবহার করে ইঁদুরের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্ট ইলেকট্রনিক ট্র্যাপ (IoT) ব্যবহার করছে।
ইঁদুর একটি ক্ষতিকর ও বিরক্তিকর প্রাণী হলেও প্রকৃতি এবং মানবজাতির কল্যাণে ইঁদুরের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞান ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইঁদুরের ভূমিকা অপরিসীম । আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বন্য প্রতিবেশের ভারসাম্য ইঁদুর ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব। মানুষের দীর্ঘায়ু এবং উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান ইঁদুরের। গবেষণাগারে ব্যবহৃত মোট প্রাণীর প্রায় ৯৫% ইঁদুর। মানুষের সাথে ইঁদুরের জিনের প্রায় ৯০% থেকে ৯৯% মিল থাকায় ঔষধ এবং টিকা গবেষণায় মানুষের আগে সেগুলোকে প্রথম পরীক্ষা করা হয় ইঁদুরের ওপর। মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের অনেক গবেষণায়ও ইঁদুরকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রশিক্ষিত ইঁদুরকে ল্যান্ড মাইন ও বোমা সনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। কম্বোডিয়ার মাগাওয়া (Magawa) নামের একটি ইঁদুর শতাধিক ল্যান্ডমাইন খুঁজে বের করে রাজকীয় স্বর্ণপদক পেয়েছিল। প্রকৃতিতে ইঁদুর না থাকলে বন্য প্রতিবেশের পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে। অসংখ্য মাংসাসি পশু-পাখির প্রধান খাদ্য হচ্ছে ইঁদুর। ইঁদুর না থাকলে এই প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি, বীজ ছড়ানো ও বনায়নের কাজে ইঁদুর ব্যাপক সহযোগিতা করে। প্রকৃতিতে ইঁদুর থাকতেই হবে, তবে ঢাকা শহরের মত এত অধিক সংখ্যায় নয়। ঢাকা শহর কেবল একটি কংক্রিট, লোহা আর পিচঢালা রাস্তার সমষ্টি নয়। একটি শহর তার মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের নাম। ঢাকায় আজ মেট্রোরেল আর এক্সপ্রেসওয়ের যুগে পদার্পণ করেও যদি ইঁদুরের উপদ্রবে জর্জরিত থাকে তবে বুঝতে হবে আমাদের উন্নয়ন একপাক্ষিক। আলবেয়ার কামুর “The Plague ” উপন্যাসের সেই শহরের মতো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই ঢাকাকে বাঁচাতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং প্রকৃতির হারানো ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে এই র্যাট্রোপলিটনকে আবারো মেট্রোপলিটন হিসাবে পুনর্জন্ম দেয়ার কাজ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য