খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৭ জুন) রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফারুকের পরিবার এবং একই এলাকার ছানা হাজির পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা প্রাচীর নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে ছানা হাজির ছেলে রাকিবের সঙ্গে ফারুকের ছেলে রুহিতের (২০) এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত রাকিব উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে রুহিতের ওপর হামলা চালান এবং তাকে আঘাত করেন। ওই সময় রুহিতের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার ছোট ভাই রুমন (১৮)। তখন রাকিব তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতের পর দুই ভাই গুরুতর রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে সহোদর রুহিত ও রুমনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর জখম হওয়া বড় ভাই রুহিত বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত রুমন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রাম, বোয়ালী ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর উপজেলা |
| ঘটনার সময় | ৭ জুন, রোববার (রাত ৯:০০ – ৯:৩০ টা) |
| নিহত ব্যক্তি | রুমন (১৮), অনার্স প্রথম বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ |
| আহত ব্যক্তি | রুহিত (২০), নিহতের বড় ভাই |
| মূল অভিযুক্ত | রাকিব (পিতা: ছানা হাজি) |
| আটককৃত ব্যক্তিগণ | বেবি বেগম (অভিযুক্তের মা) ও ইতি বেগম (অভিযুক্তের স্ত্রী) |
| চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া | লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ |
সোমবার (৮ জুন) সকালে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মূল অভিযুক্ত রাকিব পালিয়ে গেছেন। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম এবং তার স্ত্রী ইতি বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার কলেজছাত্র রুমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।