খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দোকানের কর্মচারী ময়েন উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ উঠলেও মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে দোকান মালিক রেজওয়ান হাসান জেমসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার বাসিন্দা মোছা. সুমি খাতুন তার ১০ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জুন দুপুরে শিশুটি স্থানীয় একটি ভ্যারাইটিজ স্টোরে পণ্য কিনতে গেলে দোকানের কর্মচারী ময়েন উদ্দিন মোল্লা তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে দোকানের শাটার বন্ধ করে শিশুটিকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরা, মুখে চুম্বন করা এবং ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দোকানের শাটার খুলে দিলে অভিযুক্ত কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর দোকান মালিক রেজওয়ান হাসান জেমস তার কর্মচারী ময়েনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় জেমসকে আটক করে প্রথমে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে এবং পরে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত ময়েন উদ্দিন মোল্লা পলাতক রয়েছেন। ফলে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, তিনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে; অন্যদিকে সহায়তার অভিযোগে দোকান মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, কোনো মামলার এজাহারে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কারও দায় নির্ধারিত হয়।
সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।