খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
রাজধানীর রমনা থানাধীন মৌচাক এলাকায় একটি সালিসি বৈঠক চলাকালে ছুরিকাঘাতে বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নামের জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সাবেক নেতা খুন হয়েছেন। তিনি রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাত সোয়া ৯টার দিকে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিল্লাল হোসেন মালিবাগ বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং মালিবাগ এলাকায় তার বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা রয়েছে। তার বাবার নাম মৃত ইউনুছ তালুকদার।
দলীয় দলীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলেরও আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালিবাগের সোহাগ পরিবহনের প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে হত্যাকাণ্ডের সময়ে তিনি দলটির সাবেক নেতা হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
হাসপাতালে বিল্লাল হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা তার ভাগনে মো. মোবারক হোসেন আকাশ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে প্রথমে তাকে (মোবারক) একা পেয়ে মারধর করে। ভাগনেকে মারধর করার এই খবর পেয়ে বিল্লাল হোসেন তালুকদার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে রাত আটটার দিকে ওই পূর্ববর্তী মারামারির ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে আনারকলি মার্কেটের সামনেই একটি সালিসি বৈঠক বসানো হয়েছিল।
মোবারক হোসেন আকাশ আরো জানান, ওই সালিসি বৈঠক চলাকালে যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু এবং তার সঙ্গে থাকা রমনা থানার সেক্রেটারি লুৎফরের সঙ্গে তার মামা বিল্লাল হোসেনের তীব্র তর্কাতর্কি ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এই তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে তার সাথে থাকা অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিল্লাল হোসেনের বুকে সরাসরি ছুরিকাঘাত করে। বুকের ভেতরে ছুরির আঘাত লাগার সাথে সাথেই বিল্লাল হোসেন মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আক্রমণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাজাহার এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে একটি সালিসি বৈঠককে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সংঘটিত করার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক নিহতের মরদেহের সুরতহাল ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত বিল্লাল হোসেনের বুকের মাঝখানে গভীর ছুরিকাঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার পেছনের মূল কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।