খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের শরীফপুর সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওই যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম ফারুক হোসেন (২৭)। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেমের ছেলে। পেশাগত জীবনে ফারুক হোসেন একজন রাজমিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ফারুক হোসেন কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে তিন থেকে চারজনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে উপস্থিত হয়। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফারুককে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি ছুড়তে শুরু করে। হামলাকারীদের ছোড়া গুলির মধ্যে দুটি গুলি সরাসরি ফারুকের শরীরে বিদ্ধ হয়। গুলি লাগার সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, তার শরীরে দুটি গুলি লেগেছে—যার একটি লেগেছে কোমরে এবং অন্যটি পায়ে। যুবকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিচে সংঘটিত ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
হাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহসহ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
এই বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ফারুকের শরীরে দুটি গুলি লেগেছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে বেশ আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান যে, পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং কারা এই সশস্ত্র হামলার সাথে জড়িত, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।