খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বৃষ্টিপাতবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডজুড়ে নিজের বিস্তার সম্পন্ন করেছে। তবে এর বিপরীত মেরুতে দেশীয় আবহাওয়ায় পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা শুষ্ক বাতাসও সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে। এই পশ্চিমা লঘুচাপের প্রত্যক্ষ উপস্থিতির কারণে মৌসুমি বায়ুর যে চিরচেনা স্বাভাবিক রূপ, তা এখনো পুরোপুরি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এমন আবহাওয়াকেন্দ্রীক পরিস্থিতির মাঝেও আজ বুধবার দেশের পাঁচটি প্রধান বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে দেশের রাজধানী ঢাকাতেও আজ দুপুরের পর বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ সকালের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে জানান, আজ রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টার তুলনায় আজ দেশের সার্বিক বৃষ্টিপাতের বেগ ও পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বৃষ্টিপাতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে আজ দেশের দিনের গড় তাপমাত্রা অনেকটাই হ্রাস পেতে পারে, যা জনজীবনে স্বস্তি এনে দেবে।
গতকালের আবহাওয়ার উপাত্ত এবং চলতি বছরের বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিচের ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | আবহাওয়ার বিভিন্ন সূচক ও ক্ষেত্র | নথিবদ্ধ উপাত্ত এবং তাপমাত্রার পরিমাপ |
| ১ | গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (যশোর জেলা) | ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
| ২ | গতকাল রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা | ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
| ৩ | মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের আন্তর্জাতিক পরিমাপ | ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
| ৪ | বিগত এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের শতকরা হার | স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি |
| ৫ | বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতে মৌসুমি বায়ুর ভূমিকা | দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগের বেশি |
বিগত দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধারণ করা হয়েছিল যশোর জেলায়, যার পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল এই একটি মাত্র জেলা ব্যতীত বাংলাদেশের অন্য কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলে তাকে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই গাণিতিক সূত্রে, গতকাল যশোর ছাড়া দেশের আর কোথাও কোনো ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যায়নি।
গতকাল দেশের রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তার আগের দিনের চেয়ে ঠিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, আজ দিনভর রাজধানীর তাপমাত্রা জনসাধারণের জন্য সহনীয় ও অনুকূল থাকবে। তবে আজ দুপুরের পর ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে স্বাভাবিক সময়সূচির চেয়ে প্রায় এক সপ্তাহ বিলম্বে বাংলাদেশের স্থলভাগে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটেছে। তবে দেরিতে এলেও এটি বর্তমানে দেশের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের দিকে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে দেশের মোট ভৌগোলিক সীমানার প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়েই এখন এই বর্ষাকালীন বায়ুর শক্তিশালী প্রভাব বজায় রয়েছে।
সাধারণত বাংলাদেশে উৎপাদিত বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা ৮০ ভাগের চেয়েও বেশি অংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে এই মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় সঞ্চালনের কারণে। তবে আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের মূল বর্ষা ঋতুতে স্বাভাবিকের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ এর আগে প্রচণ্ড উষ্ণ মাস হিসেবে পরিচিত এপ্রিল এবং মে মাসে দেশে স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল; যার মধ্যে কেবল এপ্রিল মাসেই স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।