খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বাদ পড়া সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানের সঙ্গে একটি ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের’ সম্পৃক্ততা ও যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপ থেকে তাকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সোমালিয়ার ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি গত বছর আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম সেরা রেফারি (বর্ষসেরা রেফারি) হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। তার ক্যারিয়ারের এই অসাধারণ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য তিনি নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো সোমালিয়ান রেফারি হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করার এক ঐতিহাসিক গৌরব অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন ওমর আবদুলকাদির আরতান।
কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহোৎসবে যোগ দিতে এসে কূটনৈতিক জটিলতা এবং নিরাপত্তার বেড়াজালে আটকে যান তিনি। আরতানের কাছে বৈধ কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকায় এবং বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি ফেরত পাঠায়।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক একটি বিশেষ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এই সরকারি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বিশ্বের ১২টি দেশের মধ্যে সোমালিয়া অন্যতম একটি রাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সোমালি নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও নিবিড় নিরাপত্তা পরীক্ষা পার হতে হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এজেন্সির কর্মকর্তারা তার নথিপত্র ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি নিয়ে আরও গভীর এবং নিবিড় অনুসন্ধান শুরু করেন।
নিরাপত্তা সংস্থা সিবিপি-র এই বিস্তারিত তদন্তের পর আরতানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর ও সংবেদনশীল তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে এই সোমালি রেফারির সরাসরি যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতা ছিল।
তদন্তে প্রাপ্ত এই সমস্ত আপত্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট – আইএনএ) এর সুনির্দিষ্ট ধারা ও বিধিমালা অনুযায়ী ওমর আবদুলকাদির আরতানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং সন্ত্রাসী সংযোগের অকাট্য প্রমাণ মেলায় এই সোমালি রেফারিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ও সংবেদনশীল ক্রীড়া আসরে ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থেকেও তাকে চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত ও বহিষ্কার করা হয়েছে।