খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি ঠোঠা এলাকায় একজন স্থানীয় জেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ ও তৎপরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জয়মনি ঠোঠা এলাকায় এই আইনশৃঙ্খলার অবনতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত দুই মাস ধরে নিখোঁজ থাকা স্থানীয় জেলে মিরাজ শেখের সর্বশেষ অবস্থা ও খোঁজ জানতে এলাকাবাসী কোস্ট গার্ড ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হলে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের বিষয়ে তথ্য জানতে এবং তাঁর সন্ধানের দাবিতে দুপুরের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কোস্ট গার্ড ক্যাম্পের অভিমুখে রওনা হন। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সঙ্গে সমবেত এলাকাবাসীর কথাকাটাকাটি হয়, যা দ্রুত দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি জনাকীর্ণ ও সংঘাতময় হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। ফাঁকা গুলির শব্দে ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও আহত হন।
সংঘর্ষের ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, নিখোঁজ মিরাজ শেখের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম এবং বোন লিজা ইসলামকে কোস্ট গার্ড তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছে। ঘটনার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে মোংলা থানা পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের অতিরিক্ত সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনি ঠোঠা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোশাকে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে আকস্মিকভাবে তুলে নিয়ে যান।
এই খবর পেয়ে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা বেগম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি স্বচক্ষে দেখতে পান যে, কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে করে মিরাজ শেখকে মোংলার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকেই মিরাজ শেখ সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ দুই মাস সময় অতিবাহিত হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। মিরাজের সন্ধান চেয়ে তাঁর পরিবার মোংলা ও বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছিল।
এই সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে জয়মনি ঠোঠা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের একটি যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
| তারিখ ও সময় | ঘটনার বিবরণ ও ফ্যাক্টস |
| ১০ এপ্রিল (সন্ধ্যা ৭:০০টা) | জয়মনি ঠোঠা এলাকার চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাকে মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের স্পিডবোটে করে নিয়ে যাওয়ার দাবি পরিবারের। |
| ১১ এপ্রিল থেকে ১০ জুন | দীর্ঘ দুই মাস ধরে মিরাজ শেখ নিখোঁজ। পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন। |
| ১১ জুন (দুপুর) | মিরাজের সন্ধান জানতে গ্রামবাসী কোস্ট গার্ড ক্যাম্পের দিকে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত। |
| ১১ জুন (সংঘর্ষের জের) | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্ট গার্ডের ফাঁকা গুলি। আতঙ্কে পালাতে গিয়ে ১০ জন গ্রামবাসী আহত। |
| ১১ জুন (পরবর্তী অবস্থা) | নিখোঁজের মা, স্ত্রী ও বোনকে কোস্ট গার্ড হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ। পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান শুরু। |
বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।