খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রাতের অন্ধকারে একের পর এক সহিংস হামলা ও ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে এক কথিত ধারাবাহিক হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম গোলাম মোরশেদ। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় একাই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরুষ সদস্য অনুপস্থিত এমন বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে হামলা চালানো হতো। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে ঘুমন্ত নারীদের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করতেন এবং পরে ঘরের মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যেতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একাধিক আঘাত না করে একবার আঘাত করেই দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন, তবে এতে অনেক ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনায় ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ গ্রামে কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবার ওপর হামলা চালানো হয়। মাথায় টিউবওয়েলের লোহার হাতল দিয়ে আঘাত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই রাতে আরও দুইটি বাড়িতে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ৭ ফেব্রুয়ারি জাহানপুর গ্রামে সুলতানা বেগমকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। একই রাতে আরও তিনটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ৭ মে বদলগাছীর দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় তিনটি পৃথক বাড়িতে ঢুকে নারী ও কিশোরীদের ওপর হামলা চালানো হয়। সর্বশেষ ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে একই ধরনের হামলায় একাধিক নারী গুরুতর আহত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁর তিনটি থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও অনুরূপ সহিংসতার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে কয়েকজন নারী নিহত ও আহত হয়েছেন।
গ্রেপ্তার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত | গোলাম মোরশেদ |
| পিতা | হইবর রহমান |
| স্থায়ী ঠিকানা | বিরামপুর, দিনাজপুর |
| গ্রেপ্তারের স্থান | শরিফপুর কোনাপাড়া, গাজীপুর |
| সময় | বুধবার ভোর |
| মামলার সংখ্যা | নওগাঁতে ৪টি, বিভিন্ন জেলায় আরও একাধিক |
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি পেশাদার ধারাবাহিক অপরাধী, যিনি একা একাই বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে অপরাধ সংঘটিত করতেন। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তার অপরাধের ধরণ ও একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অন্যান্য জেলায় সংঘটিত একই ধরনের ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।