খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এবং ভালো কর্মসংস্থানের প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন অবৈধ সীমান্ত পথে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার হওয়া ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ প্রশাসন। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে ভারতের পেট্রাপোল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে তাঁদের বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা এই সকল ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন এবং তাঁদের আদি বাসস্থান দেশের সুনামগঞ্জ, যশোর ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর ফেরত আসা ১৪ জন বাংলাদেশির প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক অভিবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সমস্ত দাপ্তরিক কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামক একটি মানবাধিকারভিত্তিক বেসরকারি সংস্থার কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোল শাখার প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম এই ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ভুক্তভোগীদের ভারতের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, উন্নত জীবনযাপনের আশায় এবং ভালো বেতনে কাজের প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে এই বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন। তাঁরা কোনো বৈধ নথিপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই দেশের বিভিন্ন গোপন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে কাজ করার সময় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁরা দেশটির পুলিশের হাতে আটক হন।
আটক করার পর ভারতীয় পুলিশ তাঁদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে ভারতের একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার বিশেষ আইনি তৎপরতা ও উদ্যোগে আদালতের মাধ্যমে ওই বাংলাদেশিদের মুক্ত করা হয়। মুক্তির পর তাঁদের সরাসরি দেশের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা শেল্টার হোমে রাখা হয়েছিল। এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্র ইস্যু করা হলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা নিজ দেশে ফিরে আসার সুযোগ লাভ করেন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরত আসা এসব বাংলাদেশিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ভারত থেকে বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভৌগোলিক অবস্থান এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হলো:
| নির্দিষ্ট বিষয় ও বিবরণ | সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য ও ফ্যাক্ট |
| ফেরত আসা মোট নাগরিকের সংখ্যা | ১৪ জন (নারী ও পুরুষ অন্তর্ভুক্ত) |
| নাগরিকদের আদি বাসস্থান ও জেলা | সুনামগঞ্জ, যশোর এবং কক্সবাজার |
| হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময় ও দিন | শুক্রবার, রাত ৮:০০ টা |
| হস্তান্তরকারী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ | পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ |
| গ্রহণকারী বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ | বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ |
| আইনি কার্যক্রমের পরবর্তী থানা | বেনাপোল পোর্ট থানা |
| সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা | জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার |
| ভারতে বাংলাদেশিদের আটক হওয়ার কারণ | দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ |
| কারাগার থেকে মুক্তির পর অবস্থান | ভারতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা শেল্টার হোম |
| স্বদেশে ফেরার আইনি মাধ্যম | দুই দেশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্র |
| ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা | ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা |