খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ জি-৭ (G7) সম্মেলনের ফাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও প্রধান কার্যালয় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই বিশ্ব নেতা আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতির সার্বিক প্রেক্ষাপটে আলাদাভাবে এই বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান নানামুখী কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই দুই প্রভাবশালী নেতার বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে (AFP) বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও এই বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জি-৭ভুক্ত দেশের নেতাদের সঙ্গে মূল বৈঠকে বসার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান জটিল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। একই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুনরায় সচল ও চালুর সম্ভাব্য উদ্যোগ ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে তাঁর কার্যকর আলোচনা করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালিটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। বৈশ্বিক জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল ও উন্মুক্ত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
সার্বিক সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই গত শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেন যে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অসাধারণ ও ফলপ্রসূ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ভাষায়, তেহরান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি চুক্তিতে সই করে, তবে চলমান যুদ্ধের অনাকাঙ্ক্ষিত অবসান ঘটতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, এই সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ইরান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দিতে সম্মত প্রকাশ করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে জানান যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপের কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি এই সম্ভাব্য চুক্তির কূটনৈতিক গুরুত্ব প্রকাশ করে আরও উল্লেখ করেন যে, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন। এর আগে অবশ্য গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে সামরিক হামলা চালানো এবং সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বা দখল করার একটি তীব্র হুমকি প্রদান করেছিলেন। তবে সেই হুমকি প্রদানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে জানান যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সেই সামরিক পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যখন এক ধরনের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ফ্রান্সে এই জি-৭ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন একটি জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জি-৭ সম্মেলনের মূল মঞ্চের আড়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার এই আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং হরমুজ প্রণালির ইস্যু নিয়ে বিশ্ব নেতাদের বহুমুখী আলোচনা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে বিশেষ গুরুত্ব ও মনোযোগ আকর্ষণ করছে। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকেরা এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।