খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
এ বালুবাহী একটি ভারী ট্রাকের চাপ সহ্য করতে না পেরে একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকসহ একটি ইজিবাইক ও সাইকেল খালে পড়ে যায় এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর জেলা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
রবিবার সকাল আটটার দিকে শহরের পাচুড়িয়া এলাকার কাছে অবস্থিত ওই বেইলি ব্রিজটি দিয়ে একটি দশ চাকার বালুভর্তি ট্রাক ঘোনাপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাকটি ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রাকটি নিচের খালে পড়ে যায় এবং পাশে থাকা ইজিবাইক ও সাইকেলও দুর্ঘটনার শিকার হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহত ট্রাকচালক, হেলপার, ইজিবাইকচালকসহ চারজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে দুর্ঘটনার পর থেকে খালে পড়ে থাকা ট্রাকটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা বিকল্প পথের ব্যবস্থা ছিল না। অতিরিক্ত ভার বহন করা ট্রাক নিয়ম ভেঙে ব্রিজ পার হওয়ার চেষ্টা করায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। শহরের এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আশপাশের বাসিন্দারা জানান, এই ব্রিজ দিয়েই তাদের প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও শহরে যাতায়াত করতে হয়। এখন ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনেক স্থানীয় বাসিন্দার মতে, বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না করেই পুরনো ব্রিজের ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। ফলে কাঠামো দুর্বল হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | পাচুড়িয়া, Gopalganj District |
| সময় | রবিবার, সকাল ৮টা |
| দুর্ঘটনার কারণ | অতিরিক্ত ভারী বালুবাহী ট্রাকের চাপ |
| ক্ষয়ক্ষতি | বেইলি ব্রিজ ধসে পড়ে ট্রাক, ইজিবাইক ও সাইকেল খালে পতন |
| আহত | ৪ জন |
| পরিবহন অবস্থা | প্রধান সড়ক বন্ধ |
এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি পুনরায় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং এতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Roads and Highways Department কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন একটি আধুনিক সেতুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অস্থায়ী সময়ের জন্য চলাচল স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ওই এলাকায় খালের ওপর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য দুটি বেইলি ব্রিজ স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি স্থায়ী সেতুর নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। সম্প্রতি স্থায়ী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
দুর্ঘটনার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।