খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ভয়াবহ এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় মার্কিন গায়ক ও গীতিকার অলিভার ট্রি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। ঘটনাটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, বিশেষ করে তার ভক্ত ও সহশিল্পীদের মধ্যে গভীর শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর উভয় হেলিকপ্টারই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে এবং এতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে অলিভার ট্রিও ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়, তবে কেউই বেঁচে ফিরতে পারেননি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। আবহাওয়া পরিস্থিতি, যান্ত্রিক ত্রুটি, কিংবা মানবিক ভুল—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং উড়োজাহাজ পরিচালনা সংক্রান্ত নথিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| শিল্পীর নাম | অলিভার ট্রি |
| বয়স | ৩২ বছর |
| দুর্ঘটনার স্থান | রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল |
| দুর্ঘটনার ধরন | দুটি হেলিকপ্টারের আকাশে সংঘর্ষ |
| নিহতের সংখ্যা | অন্তত ৬ জন |
| তদন্তের অবস্থা | চলমান |
অলিভার ট্রি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরু থেকেই বিকল্প ইলেকট্রনিক সংগীতের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ২০১৩ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম সংগীত সংকলন ‘ডেমনস’ তাঁকে সংগীত জগতে পরিচিত করে তোলে। তবে ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘হোয়েন আই’ম ডাউন’ গানটি বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হয়ে তাকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করে।
পরবর্তী সময়ে ‘এলিয়েন বয়’, ‘লাইফ গোজ অন’ এবং ‘মিস ইউ’সহ একাধিক জনপ্রিয় গান তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্ল্যাটফর্মে তার গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কোটি কোটি শ্রোতার কাছে পৌঁছে যায়।
মৃত্যুর আগে তিনি একটি বড় বিশ্বভ্রমণ ও সংগীত সফরে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম ‘লাভ ইউ ম্যাডলি, হেইট ইউ ব্যাডলি’ ঘিরে চলছিল আন্তর্জাতিক কনসার্ট ট্যুর। এই সফর মেক্সিকো থেকে শুরু হয়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইউরোপ, এশিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং আফ্রিকায় সম্প্রসারিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় তার চলমান সংগীতযাত্রা থেমে গেল, যা ভক্তদের জন্য এক গভীর বেদনার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার সৃষ্টিশীল কাজগুলোকে সংগীত ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করছেন। বিশ্ব সংগীতাঙ্গন এক প্রতিভাবান শিল্পীকে হারিয়ে গভীর শূন্যতার মধ্যে পড়ে গেছে।