জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেস্ট দলে বড় পরিবর্তন এসেছে। মাংসপেশির চোটের কারণে অধিনায়ক ও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাস পুরো সফর থেকেই ছিটকে গেছেন। তাঁর জায়গায় টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম।
দল ঘোষণার পরপরই মাহিদুল ইসলামের জন্য আসে এই সুযোগ, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক করেছিলেন এবং সেটিই এখন পর্যন্ত তাঁর একমাত্র টেস্ট ম্যাচ।
লিটন দাস অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন পায়ের মাংসপেশিতে আঘাত পান। এরপর তিনি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও খেলতে পারেননি। চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দল অধিনায়কহীন অবস্থায় মাঠে নেমে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল ইউনিটের পর্যবেক্ষণে আছেন। চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বিবেচনায় জিম্বাবুয়ে সফরের আগে তাঁর সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাহিদুল ইসলামকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ২৮ জুন হারারেতে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। এই সফরে বাংলাদেশ দল তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবে।
ইতিমধ্যে টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ একাংশ জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন। প্রস্তুতি পর্বে দলের সংমিশ্রণ ও ভারসাম্য নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে লিটনের অনুপস্থিতিতে উইকেটকিপিং বিভাগ এবং মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ে নতুন সমন্বয় খুঁজছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
মাহিদুল ইসলামকে দলে নেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচকরা ভবিষ্যতের জন্য একজন বিকল্প উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকে প্রস্তুত করার সুযোগও তৈরি করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর সাম্প্রতিক ঘরোয়া পারফরম্যান্সও নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
বিষয়
বিস্তারিত
লিটন দাসের অবস্থা
মাংসপেশির চোট, সিরিজ থেকে বাইরে
বিকল্প খেলোয়াড়
মাহিদুল ইসলাম
মাহিদুলের টেস্ট অভিষেক
২০২৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
পরবর্তী টেস্ট
২৮ জুন, হারারে
সফরের মোট ম্যাচ
১ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে, ৩ টি-টোয়েন্টি
দলের অবস্থা
অধিনায়কসহ একাংশ ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছে
লিটনের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হলেও তরুণদের সুযোগ দেওয়ার এই ধারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট আশা করছে, নতুন সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়রা এই সফরে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন এবং দলের গভীরতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবেন।