খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বর এলাকায় অবস্থিত অভিজাত আবাসিক হোটেল নর্থ ভিউয়ের ৯ তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বিকেল আনুমানিক সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তদন্ত শুরু করে।
হোটেলের ছাদ থেকে নিচে পড়ে নিহত হওয়া ওই কিশোরীর নাম নুজসাত। সে রংপুর নগরীর খলিফাপড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের মেয়ে। নুজসাত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিল। সে চলতি বছরে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর পরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল নর্থ ভিউ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক কিছু বিবরণ জানতে পেরেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে, ওই কিশোরী বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সম্পূর্ণ একা হোটেলের ৯ তলার ছাদে প্রবেশ করে। ছাদে যাওয়ার পর সে কিছুক্ষণ নিজের মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল এবং মোবাইল ব্যবহার করছিল। এর কিছুক্ষণ পর সে ছাদের সীমানা রেলিংয়ের ওপর উঠে দাঁড়ায়। এর ঠিক পর পরই সে নিচে পড়ে যায়।
ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান যে, ঘটনাটি আসলে একটি সাধারণ আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ধরনের প্ররোচনা বা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উদ্ঘাটন করতে পুলিশ গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পেছনের ঘটনা নিশ্চিত হতে হোটেল স্টাফদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও শেষ মুহূর্তের যোগাযোগের তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে এই ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, রংপুর নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এমন একটি বড় এবং অভিজাত আবাসিক হোটেলের ছাদ সাধারণ মানুষের জন্য এভাবে অরক্ষিত ও খোলা থাকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে। একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পাহারাদার ছাড়া যে কেউ কীভাবে সহজে প্রবেশ করতে পারে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় এবং নামকরা একটি আবাসিক হোটেল, অথচ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটা শিথিল যে বাইরের একজন সাধারণ কিশোরী বা যে কেউ চাইলেই অনায়াসে ছাদে চলে যেতে পারছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, হোটেল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটার সুযোগ পেয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি বহুতল ভবনগুলোর ছাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিকেলে পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।