রাজনৈতিক অঙ্গনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট পৃথকভাবে রাজপথে অবস্থান ও কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সময়ে সম্ভাব্য সংঘাত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোট পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বা অবস্থান কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। যদিও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি, দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো পক্ষ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা আশা করেন।
অন্যদিকে যুবদল অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর পর্যায়ে এ কর্মসূচি পালিত হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যজোট রাজধানীতে একটি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। গুম, খুন ও গণহত্যার অভিযোগের বিচার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই জোটের নেতারা জানিয়েছেন, দেশের যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সারাদেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই মোতায়েন কার্যকর থাকবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি (সারসংক্ষেপ)
| রাজনৈতিক দল/জোট |
কর্মসূচির ধরন |
সময় ও স্থান |
| বিএনপি |
সতর্ক অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ |
সারাদেশ |
| যুবদল |
প্রতিবাদ মিছিল |
দেশব্যাপী, ২৩ জুন |
| জামায়াতে ইসলামী |
রাজনৈতিক সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ |
রাজধানী কেন্দ্রিক |
| ১১ দলীয় ঐক্যজোট |
সমাবেশ |
বিজয়নগর, ঢাকা |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি |
বিক্ষোভ সমাবেশ |
সারাদেশ |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী |
সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা |
সারাদেশ |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক শক্তির কিছু তৎপরতা গোয়েন্দা নজরে এসেছে। তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা যায়।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও পাল্টা কর্মসূচির কারণে রাজধানীসহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে কোনো ধরনের সংঘাত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।