তারাগঞ্জে সানজিদা হত্যায় এক যুবক আটক ঘটনায় তদন্ত
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় শিশু সানজিদা আক্তার হত্যাকাণ্ডের আলোচিত ঘটনায় মো. মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক মুজাহিদ ইসলাম ভীমপুর কোরানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তদন্তের স্বার্থে তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সানজিদা আক্তার (৯)। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শনিবার দুপুরে স্থানীয়রা বাড়ির কাছাকাছি ডালিয়া খাল সংলগ্ন একটি পাটক্ষেতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং দ্রুত পরিবারকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, চোখ ও মাথার অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এ কারণে তারা ধারণা করছেন, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতে পারে। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো তারাগঞ্জ এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
তথ্য
ভুক্তভোগী
সানজিদা আক্তার, বয়স ৯ বছর
ঘটনার সময়
গত শুক্রবার (নিখোঁজ হওয়া)
মরদেহ উদ্ধার
পরদিন শনিবার দুপুরে
স্থান
তারাগঞ্জ উপজেলা, ডালিয়া খাল সংলগ্ন পাটক্ষেত
আটক ব্যক্তি
মো. মুজাহিদ ইসলাম, বয়স ১৮
পিতার নাম
মো. সেকেন্দার আলী
গ্রাম
ভীমপুর কোরানিপাড়া
তদন্ত অবস্থা
জিজ্ঞাসাবাদ চলমান
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এমন নৃশংস ঘটনার সঠিক বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। প্রশাসনও আশ্বস্ত করেছে যে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।