ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারকে মন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। মূলত কূটনৈতিক প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তার অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেই এই মর্যাদা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস স্মারকে এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, অগ্রাধিকার তালিকা বা প্রটোকল সারণিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না এনেই এই বিশেষ মর্যাদা কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি স্থায়ী প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য সীমিত একটি ব্যবস্থা।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র সরকারি অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ এবং কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ সংক্রান্ত ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার তালিকার স্থায়ী সংশোধন হিসেবে গণ্য হবে না। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন সচিবের নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি এই নির্দেশনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
চলতি বছরের ৫ জুন তিনি ঢাকায় আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করার কথা রয়েছে, যা কূটনৈতিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ব্যক্তিগত জীবনে দীনেশ ত্রিবেদী সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গেও যুক্ত। তিনি বাংলা ভাষায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখেন। পাশাপাশি তিনি সেতারবাদক হিসেবেও পরিচিত, যা তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচিতি দিয়েছে।
এই নিয়োগ এবং মর্যাদা প্রদানকে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও প্রতিনিধিত্বের প্রটোকল কাঠামোকে আরও স্পষ্ট করে।