ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসে একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে একটি মানবিক সহায়তা মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীকে দ্রুত একটি বিশেষায়িত সংক্রামক রোগ চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা করে আইসোলেশনে রাখা হয়, যাতে ভাইরাসটি অন্য কারও মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। একই সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। যাদের চিহ্নিত করা হবে, তাদের আগামী একুশ দিন কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যা ইবোলা সংক্রমণের সম্ভাব্য উপসর্গ প্রকাশের সাধারণ সময়সীমা।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে ফিরে আসা সব স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
বর্তমানে ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব চলছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। দেশটিতে গত মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর আগে থেকেই ভাইরাসটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছিল। এখন পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি সংক্রমণ এবং আড়াই শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ভাইরাসটির এই ধরণটি বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ হিসেবে পরিচিত, যার জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত টিকা বা নিশ্চিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
এদিকে কঙ্গোর প্রতিবেশী উগান্ডাতেও সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের চলমান সশস্ত্র সংঘাত, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো ইবোলা নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলছে। তবে ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের সাধারণ জনগণের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।