গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও একাধিক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলেও ছুটি না মেলায় কাজের চাপেই তার মৃত্যু হয়।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামের কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
সহকর্মী জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, লিজা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বুধবার রাতে অসুস্থতা বাড়লে তিনি ছুটির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ছুটি না পেয়ে কাজ করতে থাকেন। রাত আনুমানিক পৌনে একটার দিকে তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করলে তাকে মৃত পাওয়া যায়।
আরেক সহকর্মী মোর্শেদুল ইসলাম জানান, অসুস্থ অবস্থায় বারবার ছুটির আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি। এই ঘটনায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস, এমএসসি এবং ব্লু প্ল্যানেট নিটওয়্যার লিমিটেডসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা দুপুরে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা বরমী–মাওনা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন। এ সময় কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ট্রিপল অ্যাপারেলস কারখানার ভেতরে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ছুটির আবেদন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই। ঘটনার পর কারখানাটিতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আশপাশের কারখানাগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।