নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়েও শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য দিয়েও জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ১৩৬ রান। ইনিংসের শুরুতে ধাক্কা খেলেও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারির জুটি দলকে সামাল দেয়। তবে মাঝের ও শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।
জুয়াইরিয়া ৩১ বলে ৩৩ রান করে ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হন। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি করেন ২৭ বলে ৩২ রান। শেষদিকে রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তারের ছোট ইনিংস দলকে ১৩৬ রানে পৌঁছে দেয়, যা ছিল বাংলাদেশের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
তবে এই রানও ভারতের ব্যাটিং ঝড়ে যথেষ্ট হয়নি। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন শেফালি ভার্মা। ইনিংসের প্রথম দিকেই তার সহজ একটি ক্যাচ ফেলেন উইকেটরক্ষক জ্যোতি। সেই জীবন পাওয়া শেফালি এরপর পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
মাত্র ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৩৪ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ১ ছক্কা। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৬৩ রান।
বাংলাদেশ কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে নাহিদা আক্তারের বোলিংয়ে। তিনি শেফালিকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন এবং পরে স্বস্তিকা ভাটিয়াকেও ফেরান। রাবেয়া খানের বোলিংয়ে আউট হন রিচা ঘোষ। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ভারতের হাতে চলে যায়।
শেষ দিকে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। ১৬ ওভার ৫ বলেই ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ করে ভারত, ম্যাচ জিতে নেয় ৫ উইকেটে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় শেফালির সেই জীবন পাওয়া ক্যাচ। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের কয়েকটি সুযোগ মিসও ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।
এর আগে বোলারদের ভুলে শুরুতেই চাপ তৈরি হলেও ব্যাটিংয়ে লড়াই করে প্রতিরোধ গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে বড় মঞ্চে ধারাবাহিকতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই থেকে যায়।