খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বইমেলা’ শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলা। যে মেলা বইপ্রেমী মানুষের প্রাণে দোলা দেয়। কোনো এক অদৃশ্য শক্তিবলে লাখো মানুষকে টেনে আনে মেলায়। বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যেসব বীর মাতৃভাষা রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছিল তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। সে অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বইমেলার কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৭টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শহীদ দিবসের আগের দিন বরাবরের মতেই মেলায় লোকসমাগম আর বেচাকেনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীকাল মেলায় নামবে মানুষের ঢল। তাই ভালো বিক্রি হবে বলেই আশা করছেন বিক্রেতারা।
অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা জানালেন, আগের দিনগুলোর চেয়ে গতকাল বিক্রি বেশ ভালো ছিল। কথা প্রকাশের স্টলের ব্যবস্থাপক মো.ইউসুফও বললেন সাধারণত একুশে ফেব্রুয়ারিতেই মেলায় বেশি বিক্রি হয়। এবার বিক্রির মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আশা করে আছেন একুশের দিনের বিক্রির ওপরে।
বইমেলা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। অধিকাংশ প্রকাশনী থেকেই তাদের বেশির ভাগ নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল তথ্যকেন্দ্রে নতুন বইয়ের নাম এসেছে ১১২টি। এ বছর বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রশীদ করীমের জন্মশতবর্ষ। তার দুই উপন্যাসসহ ছোটগল্প,প্রবন্ধ,স্মারক বক্তৃতাসহ বিভিন্ন রচনা নিয়ে রশীদ করীম অমনিবাস প্রকাশ করেছে সাহিত্য প্রকাশ। এটি সম্পাদনা করেছেন প্রাবন্ধিক মফিদুল হক। প্রথমা এনেছে মুহাম্মদ লুৎফুল হকের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক লারকানা ষড়যন্ত্র থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ। দিব্য প্রকাশ এনেছে কবি হেলাল হাফিজের কবিতা সমগ্র এবং তার সাক্ষাৎকার ও বিভিন্ন রচনা নিয়ে নেহাল হাফিজ সম্পাদিত হেলাল হাফিজের অগ্রন্থিত কথামালা,কথা প্রকাশ এনেছে লুনা রুশদীর উপন্যাস আনবাড়ি,রাওয়া প্রকাশনী এনেছে লে,ইমরান আহমেদ চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণহত্যার ইতিহাস, জ্ঞানকোষ এনেছে ইমরান মাহফুজের কবিতা আড়ালে পতনের উৎসব,চন্দ্রাবতী একাডেমি এনেছে মিহির মুসাকীর শিশুতোষ ছড়া ভালোবাসি প্রিয় দেশ,আগামী এনেছে ড.ডি এম ফিরোজ শাহ’র গল্প মাদার ইন কার্লস্টাড, সুরকার সত্য সাহাকে নিয়ে তার স্ত্রীর রমলা সাহার স্মৃতিকথা আমার সত্য আমার জীবন, সুচয়নী এনেছে অনীক মাহমুদের গল্পসংগ্রহ, অন্যপ্রকাশ এনেছে সজল আশফাকের গল্প ইলিশ ইলিউশনস, ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর প্রবন্ধ সোমেশ্বর মুস্তফির পৃথিবী, সূচিপত্র এনেছে সাঈদ বারীর রম্যগল্প যাপিত জীবন, টাঙ্গন এনেছে প্রণব মজুমদারের প্রবন্ধ অর্থের কারবার।
মেলা মঞ্চের অনুষ্ঠান
কাল বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে ছিল ‘উপন্যাস, ‘ঔপন্যাসিক ও রশীদ করীমের উপন্যাসবীক্ষা : কয়েকটি প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অনিরুদ্ধ কাহালি এবং সাখাওয়াত টিপু। সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।
প্রাবন্ধিক বলেন, রশীদ করীমের সাহিত্যকর্মের মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যাই সর্বাধিক, সেই অর্থে তিনি প্রথমত ও প্রধানত একজন ঔপন্যাসিক। তাঁর উপন্যাসে মধ্যবিত্তমানসের দ্বিধান্বিত ও অন্তদ্বন্দ্বময় আত্মস্বরূপের উন্মোচন ঘটেছে। ঔপন্যাসিক হিসেবে রশীদ করীম নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাঙালির ইতিহাস, সমাজ ও আচার—আচরণের বিবর্তন—পরিবর্তন বিষয়েও তিনি লিখেছেন। তবে সবই লিখেছেন একজন ঔপন্যাসিকের জায়গা থেকে। উপন্যাস পাঠের ভেতর দিয়ে আনন্দটাকেই তিনি প্রধান মনে করেছেন। এজন্য পরিশ্রমী পাঠকের চেয়ে রসিক পাঠকের দিকেই রশীদ করীমের পক্ষপাত। তিনি সজীব—স্বচ্ছ চোখে নিজে কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটিই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা।
আলোচকরা বলেন, রশীদ করীম তাঁর জীবদ্দশায় ব্রিটিশ পর্ব, পাকিস্তান পর্ব ও বাংলাদেশ পর্ব প্রত্যক্ষ করেছেন, ফলে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ব্যাপক। আধুনিক সমাজে ব্যক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো রশীদ করীমের উপন্যাসে প্রবলভাবে উপস্থিত হয়েছে। তিনি সমাজকে অনেক গভীরভাবে বিচার করেছেন। তাঁর উপন্যাসের চরিত্রগুলো পাঠককে মোহবিষ্ট করে এবং পাঠক সহজেই নিজেকে সেইসব চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত বড়ুয়া বলেন, রশীদ করীম আমাদের বাংলা সাহিত্যের একজন সার্থক ঔপন্যাসিক। তাঁর সাহিত্য ও সাহিত্যচিন্তা নিয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের পাঠকদের সঙ্গে রশীদ করীমের সাহিত্যকর্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মো. সোলায়মান চৌধুরী, লেলিনা আক্তার, শাহীন রিজভী, মো. আশরাফুল হক, তাজ ইসলাম, আলতাফ হোসাইন রানা, চঞ্চল শাহরিয়ার, জুবায়ের আন নায়েম এবং আউয়াল খোন্দকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এস এম শাহনুর, এম এ কুদ্দুস, কামরুন নেসা চৌধুরী এবং জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা।
একুশের অনুষ্ঠান
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল আট টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করবেন কবি হাসান হাফিজ। বিকেল চার টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৫। স্বাগত বক্তব্য দেবেন করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
খবরওয়ালা/আরডি