বুধবার, ১০ই জুন ২০২৬, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ই জুন ২০২৬, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

কলাম

নতুন করে উজ্জীবিত হতে চাইবো, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার প্রগাঢ় প্রতিজ্ঞায়

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

নতুন করে উজ্জীবিত হতে চাইবো, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার প্রগাঢ় প্রতিজ্ঞায়

ফিদা হাসান রিশলু: কিছু -কিছুদিন থাকে; হারানো দিনের মত হারিয়ে যায়না কখনো। কিছু-কিছু স্মৃতি থাকে; ফেরারি সুখের মত পালিয়ে যায় না কখনো। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সেই মহান দিনটি এবং তার তাৎপর্যবহ ভূমিকার পথ বেয়ে-বেয়ে আমাদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা সর্বোপরি সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবিনাশী স্মৃতি হয়ে আজও অম্লান-অক্ষয় হয়ে আছে। একুশের মহত্ত্ব এতটাই গাঢ় যে, দেশেরগণ্ডি পেরিয়ে তার ব্যাপ্তি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অভিধায় সমুজ্জ্বল। দেশের এমন কোন শহর-বন্দর-গ্রাম কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই; যেখানে পালিত হয়না শহীদ দিবস, অর্পিত হয়না পুষ্পাঞ্জলি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যেখানেই রয়েছে বাঙালির সমাজ, সেখানেও মাথা উঁচু করেদাঁড়িয়ে আছে, আমাদের আত্মপরিচয়ের এই প্রাণের প্রতিক। মূলত: ভাষাভিত্তিক সেক্যুলার চেতনার উদ্‌গিরণ হিসাবে আমাদের এই অবিস্মরণীয় কীর্তি আজ বৈশ্বিক উদ্‌যাপনের সূর্য়রাগে ঝলমল। শহিদ বরকত, রফিক, জোব্বার, সালামের রক্তস্নাত এই দিনটিকে সামনে রেখে এবারো আমরা শ্রদ্ধার সরোবরে ভাসাবো প্রাণের প্রণতি। নতুন করে উজ্জীবিতহতে চাইবো, সর্বস্তরে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠার প্রগাঢ় প্রতিজ্ঞায়। কিন্তু দু:দুঃখজনক হলেও সত্য, এমন এক দীপ্তির আলোয় উদ্ভাসিত আমাদের প্রতিজ্ঞার পুষ্পাঞ্জলি দিনান্তের বহতায় হারিয়ে যায়- দলিতের অস্ফুটক্রন্দনে।

অঙ্গীকারের এই অনুচ্ছেদে আজও তাই সমাজের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের প্রচলন ঘটেনি। ইংরেজির প্রাতিষ্ঠানিক দাপটে কিংবা হিন্দি-উর্দূর মানস যাপনে বাংলার প্রকৃত প্রত্যয় আজ ম্রিয়মাণ। আইনপ্রণয়ন হয় বাংলায় কিন্তু উচ্চ আদালতে তার প্রয়োগ নেই। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করেব্যবসা-বাণিজ্যের বিবিধ কর্মে বাংলাভাষার জায়গা নেই বললেই চলে।বেসরকারি সংস্থা সমূহেও একই অবস্হা বিরাজমান। উচ্চবিত্তের আঙিনা ছেড়ে মধ্যবিত্তের চিলেকোঠা পর্যন্ত- শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ইংরেজি এখন সামাজিক মর্যাদার অংশ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার তেমন একটা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা লিখতে না-পারাটা অগৌরব বলে বিবেচিত নয়। একুশের বইমেলাকেকেন্দ্র করে আমাদের সংস্কৃতিরযে বিস্তৃত প্রসারণ, সেখানেও বাণিজ্যের বারোয়ারি আগ্রাসনে সৃজন আর মননক্রমশ সংকুচিত। জাতীয় অধ্যাপক, জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বলতেন, “যখন কোন নতুন জায়গায় যাইবেন, দুইটা বিষয় পয়লা জানারচেষ্টা করবেন। কাঁচা বাজারে যাইবেন, কি খায়- এইডা দেখনের লাইগা আর বইয়ের দোকানে যাইবেন, পড়াশোনা কি করে- হেইডা জাননের লাইগ্যা। বইয়ের দোকান পরখ করলেই বেবাকসমাজটা কোনদিকে যাইতেছে হেইডা টের পাওন যায়”।

দরিদ্রপীড়িত এই দেশে আমরাকি খাই আর কিখাই না- শ্রেণি-পেশানির্বিশেষে সকলেই তা অবগত। কিন্তু শিক্ষার অনগ্রসরতার কারণে পড়াশোনার বিষয়টিতে আমাদের অজ্ঞানতা রয়েছে। তুলনামূলক দারিদ্রক্লিষ্ট বইয়ের দোকানগুলো ছাপিয়ে সাড়ম্বরে উদ্‌যাপিত বইমেলার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে দেখতে পাই, দেশি-বিদেশি চেনা-অচেনা অসংখ্যলেখকের শত-শত বইপ্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের প্রকাশনা শিল্প অনেকটাই এগিয়ে। তবে বেশুমার যে-সব বই প্রকাশ পাচ্ছে, আঙ্গিকের দিক থেকে সেগুলিরসুশ্রী রূপ দেখা গেলেও বিষয় আর চিন্তার কৃপনতায় সেগুলি ব্যক্তি মানসের অভিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারছে না।অথচ ভাষা একটি জাতির নানাবিধ অভিজ্ঞতার ব্যবহারিক প্রকাশ। যে জাতির মানস আর বস্তুগত অভিজ্ঞতা যত সমৃদ্ধ, তারভাষাও- বিষয় আর চিন্তারদিক থেকে ততটাই ধনবান। সেদিক থেকে জাতির জাগতিকউন্নতি-অবনতির সাথে ভাষার সম্পর্ক সুনিবিড়। পৃথিবীর সকল সমৃদ্ধ ভাষাসমাজ জীবনের সমৃদ্ধায়নের ক্ষেত্রে হাতিয়ারের ভূমিকা পালন করেছে।

রোমানসাম্রাজ্যের কাঠামো থেকে বের হয়ে এসে ইংল্যান্ড যখন স্বাধীন রাষ্ট্রহিসাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, সেইসময় দেশীয় ভক্ত খ্রিষ্টানদের ধর্মতৃষ্ণা নিবারণ করার জন্য ল্যাটিনবাইবেলের ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন উইকলি। আবার পাদ্রী-পুরোহিতের উৎপাতে মানুষের জীবনযাত্রা যখন অতিষ্ঠ হয়েউঠেছিল, তারই প্রেক্ষিতে আধুনিকবস্তুবাদী দর্শনের পূর্বসূরি লর্ড বেকন তাঁরঅভিজ্ঞতা ভিত্তিক দর্শনের সন্দর্ভগুলো রচনা করেন। ফরাসিইনসাইক্লোপিডিষ্ট মনীষীদের কাজই ছিল, জনগণকেজ্ঞান-বিজ্ঞানের সৌন্দর্যের ব্যাপারে ধীমান এবং সচেতন করে তোলা। আধুনিক ফরাসি ভাষার সাবলীল প্রকাশ এবং সুষম অনুভূতিরধারক হিসেবে গড়ে উঠার পিছনেফরাসি বিপ্লবের দার্শনিকদের অবদানকে দেখা হয়- শ্রদ্ধার চোখে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, কোন বিষয়ের জ্ঞানযতই প্রয়োজনীয় হোক না কেন; যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি সমাজের অধিকাংশ মানুষের চাহিদার বিষয় না-হয়েউঠে, ততক্ষণ পর্যন্ত সমাজ সেটি ধারণকরতে পারে না। দেশীয় প্রেক্ষিতে আমরা দেখেছি, বৈজ্ঞানিকজগদীশ চন্দ্র বসু, তাঁর সমস্ত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফর্মূলাসমূহ বাংলাভাষায় লিপিত করবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু বাংলাভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে গ্রহণ করবার মত শিক্ষার্থী না-থাকার কারণে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ঐসব আবিষ্কারের পাঠক পাওয়া যাবে না- ভেবে, তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তাই দেখা যাচ্ছে, কোন বিষয়ের উপর ব্যাপক জ্ঞানথাকা কিংবা ভাষার মাধ্যমে প্রান্জলভাবে প্রকাশ করবার ক্ষমতা থাকাটাই সবসময় ভাষার প্রসারতা সাধনে প্রণোদিত করে না। কোন জ্ঞান কিংবা বিজ্ঞান সামাজিক চাহিদার পর্যায়ে না এলে সমাজেতার ব্যাপ্তি-বিকাশ ঘটে না।

সামাজিক চাহিদার সাথে নিজস্ব চিন্তা-চেতনার স্ফুরণ ঘটিয়ে রাজা রামমোহন রায়এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আধুনিক বাংলা গদ্য সাহিত্যকে সুনির্দিষ্ট ভিত্তির উপর দাঁড় করাতেসমর্থ হয়েছিলেন। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁরা দুজনই বাংলা ভাষাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। একঈশ্বরের আরাধনা, বিধবা বিবাহ প্রচলন কিংবা সহমরণ রোধের মত সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে তাঁদের লিখনী নিয়ে বাংলা গদ্যসাহিত্য সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।তবে এর বাইরে যাওয়ারও ক্ষমতা তাদের ছিল না। সেটিকরতে গেলে পূর্ণাঙ্গ একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা করতে হতো; ঐতিহাসিক কারণে যেটি ছিল- অসম্ভব। রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারত বিভক্তির পর বাংলা ভাষা এবংসংস্কৃতির যতটুকু শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে; তা হয়েছে সামাজিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের বাহন হওয়ার জন্য।সেদিক থেকে ভাষা আন্দোলনপরবর্তি সময়কাল ছিল, বাংলাভাষী এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। আগের দিনে ৫৪ সাল পর্যন্ত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইংরেজি মাধ্যমে হওয়ার কারণে পাশের হার হতো- তিনভাগের একভাগ। বাংলা মাধ্যম চালু হওয়ার পর ঝরে পড়ার পরিমান কমেএসে বাড়তে থাকে পাশের হার।একইভাবে ৫৭ সাল থেকেউচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা মাধ্যম চালু হওয়ার পর উনসত্তুরের ফলবতী ধারায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু হয়।

শিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা মাধ্যমের এই সমান্তরাল অগ্রগতি একদিকে যেমন শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, একই ভাবে নিজস্ব অস্তিত্ব রক্ষার জাতীয়তাবাদী জাগরণে সেটি শানিত হয়েশিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির আংগিনাতেও ফলিয়েছে সোনালি ফসল। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান,, আল মাহমুদ, সৈয়দশামসুল হক, সত্যেন সেন, মুনীর চৌধূরী, শহীদুল্লা কায়সারের সাথে- সাথে উনসত্তরের অভ্যুত্থানআর মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে ‘আগুনপাখি’ হয়ে বেড়িয়ে আসেন- হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আহমেদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ, সেলিম আলদীন, আবুল হাসান, হুমায়ুনআহমেদ, নির্মলেন্দু গুণের মত আরও-আরওপ্রতিভাধর গুণিজন। রাজনৈতিক আন্দোলনের উদ্দীপ্ত আবাহন কিংবা বিদ্রোহ-বিপ্লব মানুষের চৈতণ্যে কতটা শিষ দিয়েযায়, তারই দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন, ইংরেজ কবি এবং গবেষক উইলিয়াম রাদিচে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সংবেদনশীল এই বিদেশিকে বাংলাভাষার প্রতি এতটাই দরদি করে তোলেযে- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ তাঁরই দ্বিতীয় অনুবাদে বাংলা সাহিত্যের অংশ হয়ে আছে। তাই ৫২’র ভাষা আন্দোলন একদিকে যেমন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রত্যয়; একইভাবে বাংলা ভাষার উৎকর্ষ ও সৌন্দর্য বিকাশের ক্ষেত্রে জমাট-বুনট নকশীকাঁথার প্রসারিত প্রাঙ্গনও বটে।

মুক্তিযুদ্ধেরমত বিশাাল এক মহত্ত্বের মধ্যদিয়ে অর্জিত, ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে ঠিকই কিন্তু সর্বস্তরে বাংলাভাষার প্রচলন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। সমাজের সাবলীল প্রবাহে যার কোন স্বত:স্ফূর্ততা নেই, তার ভিতরেপ্রাণ জাগাতে হলে নানা ভাঙচুরকরে তাকে খাপ খাওয়ানোর জন্য উপযুক্ত করে নিতে হয়।বাহিত সমাজের বস্তুগত এবং মানসগত পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে সেই বিয়য়টিকে গণমানুষের আত্মার সাথে সম্পৃক্ত করেনিতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সামাজিকায়নে সেটি সম্ভব হয়ে উঠেনি। শুরু থেকেই এইজনপদের মানুষ ভাষা ও সংস্কৃতিরদিক থেকে দুটি স্পষ্টধারায় বিভক্ত ছিল।

একদলছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানের নয়া ঔপনিবেশিক শাসন-শোষনের ধারাবাহিকতায় উৎপীড়িত আর অন্যদের ছিল, সেই শোষণের ফায়দাটুকু লুঠ করে তার-থেকে সুবিধা নেয়ারপ্রবণতায় মত্ত। যারা উৎপীড়িত হয়েছেন, তাদের ভাষা এখনো অনেকটাই আদিম যুগের বাংলা ভাষায় রয়ে গেছে। আরযারা সেইসব ক্ষমতাধরদের সহায়কের ভূমিকা পালন করেছেন, তারাআধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে নিজেদের মুখেরভাষা আধুনিক ছাঁচে ঢালাই করে নিয়ে যাবতীয়সুবিধা নিয়েছেন। এভাবেই ঔপনিবেশিক শাসনের পক্ষপুটে সৃষ্ট বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি স্বাধীন দেশের সমাজ-রাষ্ট্রেও লোভ-লালসা আর কপটতার কদর্যতায় নিজেদের বিকৃত বিকাশ ঘটিয়েছেন। সৃজনশীলতায় অক্ষম এরা; অনুকরণে পটু।এ রাই বিদেশি শক্তির আনুকুল্যে একচেটিয়া লুটেরা পুঁজির প্রতিভূ হয়ে মনোজগতে উপনিবেশ গড়ে তুলেছেন। বাংলাভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পরেও নিজের নামেদেশ হয়ে উঠা এইদুঃখিনী বাংলাদেশের-বাংলাভাষা তাই এখনো অবহেলিত-উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। উপেক্ষারএই অন্তর্জ্বালা সাথে নিয়ে আমাদের সন্তানদের এক বিরাট অংশ মাদ্রাসা শিক্ষা আর ইংরেজি মাধ্যমের মুখরিত পেখমে করে উড়ে উড়ে যাচ্ছে- প্রসারিত বাংলার বিস্তৃত বুক থেকে ভিন্নতর সংস্কৃতির অন্যতর সরোবরে। বারোয়ারি শিক্ষার এই বেসাতি দিক্ষায় বাংলা, ইংরেজি আর আরবির যাবতীয় জলমহালে তবুও শুনি, বারবার শুনি-একুশের চিরায়ত বাণী:

আমি বাংলায় কথা কই
আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি
বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি
বাংলায় হাহাকার
আমি সব দেখে-শুনে ক্ষেপেগিয়ে করি
বাংলায় চিৎকার
বাংলা আমার দীপ্ত স্লোগান
ক্ষিপ্ততির-ধনুক
আমি একবার দেখি, বার-বার দেখি
দেখি বাংলার মুখ।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

খবরওয়ালা/এমএ জেড