খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ২৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: হবিগঞ্জের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি প্ল্যান্ট ৪৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও, বর্তমানে একটি ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্টে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বাকি দুটি প্ল্যান্টের মধ্যে একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্ট উদ্বোধনের পর ৪ বছরে মাত্র ৬৭ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। সবচেয়ে বড় ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্টটি ২০২২ সালে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, মেরামতের অভাবে এখনও উৎপাদন শুরু হয়নি। এর ফলে, দুটি প্ল্যান্ট থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশের জনগণ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি প্ল্যান্টগুলো বন্ধ রাখার পেছনে বেসরকারি প্ল্যান্টগুলিকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদনে থাকা ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্টটি ২০২২ সালের ২৯ মে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর তিনটি ট্রান্সফরমারসহ বেশকিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়, যার মেরামত করার জন্য তৎকালীন জ্বালানি সচিবের নির্দেশে সেই বছরের আগস্টে প্রস্তাবনা পাঠানো হয় এবং বোর্ডও সম্মতি দেয়। তবে সময়ক্ষেপণের কারণে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ক্রয় প্রক্রিয়া বাতিল করে ১৫ মাস পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার পর আরও ৯ মাস সময় ব্যয় হয়। শেষপর্যন্ত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই একটি বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে ৮ মাসে সংস্কারের চুক্তি হয়। ফলে, প্রায় ২৪ মাসে প্ল্যান্টটি উৎপাদনে যেতে পারেনি। যদি প্রস্তাব অনুযায়ী সংস্কার করা হতো, তাহলে তিন মাসে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব ছিল। তবে, এই ২১ মাসে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারত, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ২১ মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম গণমাধ্যমে বলেন, বিগত সময়ে সরকারি প্ল্যান্টগুলোর উৎপাদন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ কিনেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি প্ল্যান্টগুলিকে সুবিধা দেওয়া, আর এ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি প্ল্যান্টগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এই ক্ষতির দায় সাবেক সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের। বোর্ড সুপারিশ করলেও তিনি দ্রুত সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাননি।
শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা আশা করছেন, এপ্রিল মাসেই একটি ইউনিট চালু করতে পারবেন, যা থেকে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। বাকি ২২০ মেগাওয়াটের প্ল্যান্টগুলোর সংস্কার কাজও দ্রুত শুরু করা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময় জানানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ১০০ মেগাওয়াট প্ল্যান্টটি পরীক্ষামূলকভাবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয়, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এটি বন্ধ হয়ে যায়। ৪ বছরে এটি মাত্র ১৬১০ ঘণ্টা বা ৬৭ দিন কাজ করেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ৬০ মেগাওয়াটের পুরোনো প্ল্যান্টটি চালু রয়েছে, যা থেকে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
এ প্রকল্পের পরিচালক একে মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কেবল করপোরেশন থেকে প্ল্যান্টটি এখনও বুঝে নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশগুলো পরিবর্তনের জন্য চিঠিপত্র চালাচালি চলছে এবং প্রতিষ্ঠানটি তাতে রাজি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা তার কাছে নেই, তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য হল এই প্ল্যান্টগুলো দ্রুত উৎপাদনে আনা।
খবরওয়ালা/জেআর