খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হাতি উপহার দিয়েছেন মিয়ানমারের জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সম্প্রতি মিয়ানমার রাশিয়ার কাছ থেকে ছয়টি যুদ্ধবিমান কিনেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হাতি উপহার রাশিয়া ও মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক। অনেকে একে ‘হাতি কূটনীতি‘ বলেও অভিহিত করছেন।
মঙ্গলবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, মিয়ানমারে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তারা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু বিদ্যুৎ সংস্থা রোসাটম মিয়ানমারে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধান করবে রোসাটম, পাশাপাশি কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বও থাকবে তাদের হাতেই।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ২৫তম বার্ষিকী প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘আমরা আমাদের বন্ধুত্বের ভিত্তির রজতজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি। মিয়ানমার ও রাশিয়ার সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাতি উপহারের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘আপনার এই বন্ধুত্বপূর্ণ উপহারের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। হাতিগুলো ইতোমধ্যেই মস্কোর চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।’
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দুই প্রধান মিত্র হলো চীন ও রাশিয়া। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর মস্কো প্রকাশ্যে জান্তা সরকারকে সমর্থন জানায়।
রাশিয়া মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। সামরিক সহায়তা ছাড়াও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে দুই দেশ।
আগামী ৯ মে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উপলক্ষে মস্কোতে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই কুচকাওয়াজে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লেইং গ্রহণ করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে রাশিয়া ও মিয়ানমারের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
খবরওয়ালা/ এমবি