খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
কক্সবাজার সেন্টমার্টিন এলাকার নাফ নদী থেকে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্ন বাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি বাংলাদেশি ১১ জেলে ও দু’টি ট্রলার অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার দুদিন পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি জেলেরা। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকালের দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের নৌ-ঘাটে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এরমধ্যে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা নবী হোসেনের মালিকাধীন ট্রলারের জেলেদের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা জাকির হোসেনের মালিকাধীন ট্রলারের জেলেদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
নবী হোসেনের মালিকাধীন ট্রলারের জেলেরা হলেন, মোহাম্মদ কাসেম (৩৫), আজিজুর রহমান (২০), মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২৫), মো. মহিউদ্দিন (৪৬), মো. আব্দুল্লাহ (৩০)। তারা সবাই শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ট্রলার মালিকদের বরাত দিয়ে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া খাল থেকে শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা জাকির হোসেনের মালিকাধীন ট্রলারটি ছয়জন জেলে নিয়ে মাছ ধরার জন্য বঙ্গোপসাগরে যায়। তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে মাছ শিকার শেষে ফেরারপথে ভুলবশত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্য লাইন অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমার নাইক্ষ্যংদিয়া মোহনা নামক এলাকায় ঢুকে পড়ে। এ সময় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একটি স্পিডবোট যোগে ট্রলারসহ ছয়জন জেলেকে আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফাতংজা খালে ভেতরে নিয়ে যায়।
স্থানীয় জেলেদের বরাতে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান মেম্বার বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা মাছ ধরে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ নৌ-ঘাটে ফেরার পথে ফিরছিলেন। এ সময় মিয়ানমার অভ্যন্তরের জলসীমানার নাইক্ষ্যংদিয়া স্থান থেকে আরাকান আর্মির সদস্যরা প্রথমে একটি ট্রলারে ৬ রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করে। পরে কয়েক ঘণ্টা পরে বাংলাদেশি ৫ জেলেকে আরেকটি ট্রলারসহ অপহরণ নিয়ে যায়।দুইদিন পার হলেও মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মি জেলেদের এখনো ছেড়ে দেয়নি।
টেকনাফ-২ বিজিবির ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ আমাদের কাছে কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি। তারপরও বিজিবি সার্বক্ষণিক জেলেদের বিষয় নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গত দুইদিন আগে আরাকান আর্মি ১১ জেলেকে অপহরণ করে। এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আমরা স্থানীয় জেলেদের বার বার নিদের্শনা দিচ্ছি কোনোভাবে সীমান্তের জলসীমানা পাড়ি না দেওয়ার জন্য। সুযোগ পেলেই আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাচ্ছেন জেলেদের।
খবরওয়ালা/টিএ