খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি : প্রশাসনের সাথে খারাপ আচরণ করলে যে করবে তার গলার নলি ধরে ছিড়ে ফেলার হুশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে পছন্দের লোককে পদায়ন করা নিয়ে ভিসি অফিসে ছাত্রদলের সাথে সৃষ্ট হট্টগোলের একপর্যায়ে ভিসির টেবিল চাপড়ে এই হুশিয়ারি দেয় সে।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডায় জড়ান প্রো-ভিসি ড. এম এয়াকুব আলী ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান। ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ রেজিস্ট্রার পদে কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান পিকুলের নাম প্রস্তাব করলে প্রক্টর তাদের কাছে আরো কয়েকজনের নাম প্রস্তাবনা চান। এই নিয়ে প্রক্টর ও প্রো-ভিসি তর্কে জড়ায়। প্রো-ভিসি প্রক্টরকে জামায়াত আখ্যা দিলে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডায় সৃষ্টি হয়। এসময় কক্ষের বাইরে অবস্থানরত সাংবাদিকরা ভিসির কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। হট্টগোলের শব্দ আমতলা পর্যন্ত পৌঁছালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহ সমন্বয়ক নাহিদ হাসান, ইসমাইল হোসেন রাহাত, ইয়াশিরুল কবীর সৌরভ, সায়েম আহমেদ, তানভীর মন্ডল এবং অন্যান্যরা আবারো দৌড়ে ভিসি অফিসে প্রবেশ করে। ছাত্রদলের বাধা উপেক্ষা করে বৈষম্যবিরোধীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করলে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
এসময় ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব নসরুল্লাহ চেয়ারে বসা ছিলেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় সমন্বয়ক সুইট ভিসির টেবিল থাপড়ে উচ্চস্বরে বলেতেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা কথা বলে যে কর্মকর্তা হোক আর যেই হোক, আমি তাদের গলা টিপে হত্যা করব। এই দুঃসাহস কার আছে, যে যে কর্মকর্তারা আজকে চিল্লাচিল্লি করছে, আমি তাদের সবগুলোর অবস্থান জানি। এই কুষ্টিয়া এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি একা হাতে আন্দোলন পরিচালনা করছি। আমরা প্রশাসনের সবাইকে সহযোগিতা করে আসছি। কেউ যদি আমাদের এই সহযোগিতাকে দূর্বলতা মনে করে তার গলার নালি আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলব। বিগত দুইটা মারামারি হইছে আপনি তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি৷ আপনাকে আমি দুই দিন সময় দিলাম, এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনি ব্যবস্থা নিবেন।
প্রক্টর অধ্যাপক শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে জামায়াত বলে সম্বোধনের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার নয়। বিগত দিনে আমি কী করেছি তা সবাই জানেন।
পরবর্তীতে ভিসি ড. নকীব নসরুল্লাহ বলেন, এই রুমে এরকম চিৎকার চেঁচামেচির ইতিহাসে কোনদিন হয়তো হয় নাই। প্রশাসনের ৩ জন আমরা সবসময়ই বলেছি যে আমরা চুপ থেকে সবার কথা শুনে কাজ করি। আমি আজকে সবাইকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। একটি কাজও নেই যা আমি প্রো-ভিসি বা ট্রেজারারকে না জানিয়ে করেছি৷ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছু দিতে এসেছি, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়ার বা নেওয়ার মতো আমার কিছু নেই। এ বিশ্ববিদ্যালয় বিভাজন করে আমার কোনো ফায়দা নেই। এই পদগুলো পরিবর্তনের কোন সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত আসেনি তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রস্তাবনা এসেছে। রেজিস্ট্রার ইতোমধ্যে ছুটিতে আছে, এই মাসের পর সে থাকবে না, ৪ টি পদেই আমরা পরিবর্তন আনবো।
জানতে চাইলে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ছাত্রদলের আহবায়ককে কোন এক শিক্ষক নাকি রেজিস্ট্রারের বিকল্প কয়েকটি নাম বলতে বলেছে। আমি এব্যাপারে সাহেদের কাছে জানতে চেয়েছি। উপাচার্যের কার্যালয়ে এক জুনিয়র শিক্ষক তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এব্যাপারে ভিসির কোন ভুমিকা আমি দেখিনি উল্টো সে আমাকে নিবৃত্ত করতে চায়। ভিসি এর বিচার না করলে আমি বিষয়টি অন্যভাবে দেখব।
তবে এঘটনার আগে কয়েক দফায় রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের অপসারণ চেয়েছিল ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এসময় ছাত্রদলের একাংশ ডেপুটি রেজিস্ট্রার ওয়ালিদ হাসান পিকুলকে এবং সমন্বয়করা শিক্ষকদের ভেতর থেকে কাওকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের দাবী জানায়। ভিসি অফিসে হট্টগোলের পরের দিন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল হককে নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেন ভিসি ড. নকীব নসরুল্লাহ।