খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
প্রায় সাত ঘণ্টা পর বনানীর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ সোমবার (১০ মার্চ) সকালে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে এয়ারপোর্ট -বনানীর রাস্তা অবরোধ করেন শ্রমিকরা। অবরোধের পর বনানীসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এমনকি এই যানজটের প্রভাব রাজধানীর অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়ে। যানজটে আটকা পড়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
বনানী থানা-পুলিশ বলছে, আজ সকাল ৬টা ৪১ মিনিটের দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় কলাবাহী একটি পিকআপের চাপায় মিনা আক্তার নামে এক নারী পোশাকশ্রমিক নিহত হন। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ থেকে মহাখালীর আমতলী পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নেন। এতে দুই পাশের সড়কে শত শত গাড়ি আটকে পড়ে।
প্রায় ৭ ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শ্রমিকেরা সরে যাওয়ার পর যান চলাচল শুরু হয়।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার বলেন, পিকআপটি ইতিমধ্যে তেজগাঁও থানা-পুলিশ আটক করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তেজগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে গাড়িটিকে আটক করা হয়। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাঁকে আটক করার চেষ্টা চলছে।
সড়ক অবরোধ চলাকালে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় যানবাহন আটকে আছে। ফলে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে বিপাকে পড়েন। তাঁদের অনেকে উপায় না দেখে পায়ে হেঁটেই যাত্রা শুরু করেন।
কুমিল্লার বাসিন্দা কামরুল হাসান সৌদি আরব যাবেন। তাঁর ফ্লাইট বেলা ২টা ২৫ মিনিটে। যানবাহন না পেয়ে তিনি পায়ে হেঁটে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন।
কামরুল হাসান বলেন, কুমিল্লা থেকে গাড়িতে তেজগাঁও পর্যন্ত এসেছেন। রাস্তা বন্ধ শুনে পায়ে হেঁটে রওনা দেন তিনি।
এনা পরিবহনের বাসচালক হাফিজুর রহমান বলেন, সিলেট থেকে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে বনানীতে পৌঁছান তিনি। এরপর বাসটি আটকে দেয় শ্রমিকেরা। তখন থেকে একই জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। ফলে বাস থেকে সব যাত্রী নেমে গেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তারেক মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকেরা তিনটি দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে আছে—পিকআপ ও চালককে আটক, ক্ষতিপূরণ প্রদান ও নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করা। পিকআপটি ইতিমধ্যে আটক হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আর ক্ষতিপূরণ ও ও নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা আলোচনা করবেন। দাবি পূরণের আশ্বাসে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দেন, যান চলাচল শুরু হয়।
খবরওয়ালা/এমইউ