খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে দেশটির পশ্চিমবঙ্গে ফেরানোর দাবি উঠেছে ভারতীয় সংসদে। সোমবার (১৭ মার্চ) বিজেপির সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি তসলিমাকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরানোর আবেদন করেন।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তসলিমাকে তৎকালীন কিছু কংগ্রেস নেতার প্ররোচনায় কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, যারা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তিনি ভারত সরকারকে অনুরোধ করেন, এই প্রখ্যাত সাহিত্যিককে কলকাতায় ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হোক।
২০০৭ সালে তার বই দ্বিখণ্ডিত প্রকাশের পর কলকাতায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তসলিমাকে সুরক্ষার কারণে শহর ছাড়তে বলা হয়। এরপর তিনি দিল্লি ও জয়পুরে অবস্থান করেন এবং পরে ইউরোপে চলে যান। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন।
নিজের বক্তব্যে তৎকালীন বাম সরকারেরও সমালোচনা করতে ছাড়েননি শমীক। অন্যান্য নারীবাদী বিষয়ে সোচ্চার হলেও তসলিমার ক্ষেত্রে তারা মৌন কেন সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রাজ্যসভায় শমীকের এই বক্তব্যে স্বভাবতই খুশি তসলিমা। মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য নিজের ফেসবুকে শমীককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
বাম সংসদ সদস্য গুরুদাস দাশগুপ্তের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, তারপর আর কেউ তার হয়ে কথা বলেননি। বর্তমান রাজ্য সরকার তার লেখা মেগা সিরিয়াল বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে তৃণমূলের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আগে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বিজেপির এই দাবিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় মেরুকরণের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিজেপি কেন এখনো তসলিমাকে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেয়নি
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে লজ্জা প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন। কলকাতা তার সবচেয়ে প্রিয় শহর হলেও ২০০৭ সালের ঘটনার পর থেকে তিনি সেখানে ফিরতে পারেননি।
খবরওয়ালা/এসআর