খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
নতুন বছরের তিন মাস পার হতে চলল, কিন্তু বিনামূল্যের এই বই এখনো সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক কমিটি (এনসিটিবি)। মাধ্যমিক স্তরের এখনো ২০ লাখ বই ছাপানো বাকি রয়েছে।
শেষ সময়ে এসে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানির উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি। পাঠ্যবইয়ের সংস্কার ও পরিমার্জনের দায়িত্বও পায় বিতর্কিতরা। বলা যায়, এনসিটিবির এসব নানা অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও ধীরগতির কারণে বই ছাপাতে দেরি।
জানা যায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের আড়াই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অথচ এখনো প্রায় এক কোটি বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেননি এনসিটিবি। এখনো ২০ লাখ বই ছাপানো বাকি রয়েছে। এর মধ্যে সবগুলোই মাধ্যমিক স্তরের বই।
এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৪০ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এছাড়া শেষের দিকে ছাপানো বইয়ে মান ঠিক রাখছে না বেশ কয়েকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন দেখা গেছে, নয়নমনি, ফরাজি, অক্সফোর্ড, কর্ণফুলীসহ বেশ কয়েকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান দরপত্র অনুযায়ী কাগজের মান ঠিক রাখেনি। এদিকে সদ্য সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এবার পাঠ্যবই দেরিতে দেওয়া হলেও মান ভালো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশংসা ধরে রাখতে পারছে না এনসিটিবি।
গত ২৬ জানুয়ারি এনসিটিবির চেয়ারম্যান ড. একেএম রিয়াজুল হাসান অবসরে যান। এরপর তাকে প্রেষণ প্রত্যাহারক্রমে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ফের দুই মাসের জন্য পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
আগামী ২৫ মার্চ তার এই অতিরিক্ত মেয়াদ শেষ হবে। ফের অতিরিক্ত নিয়োগ পেতে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছে এই চেয়ারম্যান।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের কিছু বই এখনো ছাপানো বাকি রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া পরিমার্জন ও সংশোধনের কারণসহ বেশ কিছু কারণে পাঠ্যবই দিতে দেরি হয়েছে।
শেষ সময়ে কাগজ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত দেরি হওয়ার কারণে এমন হয়েছে। বইয়ের মান নিয়ে তিনি বলেন, এবার সব পাঠ্যবইয়ের মান ভালো না হলেও ৮০ ভাগের মান ভালো।
খবরওয়ালা/এমইউ