মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

অনুবাদ - ঈদ সংখ্যা ২০২৫

ভিন্ন ভাষার গল্প

জেনেসিস অ্যান্ড ক্যাটাস্ট্রফি: একটি সত্য ঘটনা

লেখক: রোয়াল ডাল, ভাষান্তর: আফরিদা ইফরাত

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

জেনেসিস অ্যান্ড ক্যাটাস্ট্রফি: একটি সত্য ঘটনা
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

‘একবারেই নড়বেন না। এখন সব ঠিক আছে। হ্যাঁ, এভাবেই হেলান দিন। শুয়ে থাকুন। আপনার এখন বিশ্রাম নিতে হবে’—বেশ জোরেই কথাগুলো বলছিলেন। তবে এমনভাবে বলছেন, যেন অনেক দূর থেকে তাকে কথা বলতে হচ্ছে।
আপনার ছেলে হয়েছে।
কী?
আপনার একটি ফুটফুটে সুন্দর ছেলেসন্তান হয়েছে। বুঝতে পারছেন না? আপনি কি ওর কান্না শোনেননি?
ডাক্তার, ও কি সুস্থ আছে?
দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি সুস্থ এক সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
তাহলে দোহাই লাগে, ওকে আমার কাছে নিয়ে আসুন।
একটু অপেক্ষা করুন। আপনার কাছেই আপনার যাদুমণিকে আনা হবে।
ও কি সত্যিই সুস্থ আছে?
এ কেমন কথা! আপনার সন্তান সুস্থ থাকবে না কেন?
তাহলে কান্নার শব্দ পাচ্ছি না যে?
আপনার এখন এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কথা নয়। বরং বিশ্রাম করুন।
আপনি আগে বলুন আমার ছেলে কাঁদছে না কেন। ওর কিছু হয়েছে?
ঈশ্বরের দোহাই লাগে, আপনি শান্ত হোন দয়া করে। আমি আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, আপনার সন্তান সুস্থ আছে।
ক্লান্ত ভদ্রমহিলার হাত আলতো চেপে ধরে বলেন, আপনার সুস্থ ও সুন্দর এক ছেলে হয়েছে। আপনি কেন আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না?
ওই মহিলা ওদিকে কী করছে?
তেমন কিছু না। আপনার সন্তানের শরীর সাফ করা হচ্ছে। শরীরে পানি দিয়ে রক্ত বা অন্য নোংরা ধুয়ে ফেলা দরকার। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আপনার ফুটফুটে যুবরাজকে হাজির করা হবে আপনার সামনে।
ডাক্তার, আপনি আমাকে ছুঁয়ে বলুন তো আমার সন্তানের কিছু হয়নি!
ঈশ্বর! আচ্ছা, আমি আপনাকে ছুঁয়ে বলছি। কি? এবার বিশ্বাস হলো তো? আপনি আপাতত পেছনে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকুন। চোখ বন্ধ রাখুন। এই তো, লক্ষ্মী মেয়ে…
আমি দিনরাত শুধু প্রার্থনা করছি। খোদা, আমার এই সন্তানকে তুমি বাঁচিয়ে রাখো।
আপনি এসব অলক্ষুনে কথা কেন ভাবছেন? আপনার সন্তান বাঁচবে। বড় হবে।
কারণ, অন্যরা তো বাঁচেনি।
বাঁচেনি মানে?
আমার আগের কোনো সন্তানই বাঁচেনি ডাক্তার সাহেব।

ভদ্রমহিলার মুখের ফ্যাকাশে ক্লান্ত ভাবটা এবার স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ডাক্তার আগে এমনটা লক্ষ করেনি। শহরে তারা নবাগত। এসে উঠেছেন এক হোটেলে। হোটেলমালিকের স্ত্রীই তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। ওই মহিলা জানায়, তিন মাস আগে তারা এখানে এসেছে। ভদ্রমহিলার স্বামী বর্ডারের কাস্টমস হাউসে চাকরি করে। মহিলা অবশ্য মহিলার স্বামী যে মাদকাসক্ত, এ কথাও লুকোলেন না। সামান্য নেশা করেই পশুর মতো আচরণ করে। অনেকটা দাম্ভিক প্রকৃতির। তার বিপরীতে ভদ্রমহিলা বেশ শান্ত, ধর্মভীরু। দেখলেই মনে হয় একরাশ বিষণ্নতা সব সময় তাকে গ্রাস করে রাখে। আনন্দের লেশমাত্র ওই মুখে দেখতে পাওয়া যায় না। সে স্বামীর তৃতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী বেঁচে নেই। দ্বিতীয়জন নিজেই বিবাহবিচ্ছেদের পথ বেছে নিয়েছেন। এসব কথা সত্য নাকি মিথ্যা, বলা মুশকিল।

চাদরটা ভদ্রমহিলার গায়ে খানিকটা টেনে দিয়ে ডাক্তার আবার তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে, অযথা দুশ্চিন্তা করছেন। আপনার ছেলে সুস্থ আছে।
আপনার প্রতিবার এই কথাই বলেন। কিন্তু কই! কেউ তো বেঁচে নেই। গত আঠারো মাসে তিনবার মা হয়েছি আমি। একটি সন্তানও বেঁচে নেই আমার । আর আপনি বলছেন আমি মিছামিছি চিন্তা করছি!
তিনজন সন্তানকে হারিয়েছেন!
হ্যাঁ। চার বছরের সংসারে এ নিয়ে চারবার মা হলাম আমি।

এ কথা শুনেই ডাক্তার হকচকিয়ে উঠলেন। পা দুটো অসার হয়ে আসছে বুঝতে পেরে একটু নড়েচড়ে দাঁড়ালেন।
একের পর এক সন্তান হারানোর যে কী যন্ত্রণা—সেটা একজন মা ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না। আপনিও বুঝতে পারবেন না। ওদের মুখ এখনো আমার চোখে ভাসে। গুস্তাভের মুখটা স্পষ্ট দেখতে পাই। মনে হয়, ও যেন আমার পাশেই শুয়ে আছে। কী ফুটফুটেই না ছিল আমার গুস্তাভ । কিন্তু একের পর এক অসুখ লেগেই থাকত। আপনিই বলুন, সন্তানকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখলে একজন মা কি ঠিক থাকতে পারে? ওদের জন্য আমি কিচ্ছু করতে পারিনি। কিচ্ছু না…
আমি আপনার কষ্ট বুঝতে পারছি।

ভদ্রমহিলা এবার চোখ খুললেন। তবে বেশিক্ষণ খোলা রাখতে পারলেন না। ডাক্তারকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেই আবার চোখ বুজে ফেললেন।
গুস্তাভের পর আমার একটি মেয়ে হয়েছিল। ইডা। বড়দিন আসতে আর মাত্র চার মাস বাকি । ইডা চলে যায়। আপনি যদি ইডাকে একবার দেখতেন।
এত নিরাশ হবেন না। এখন তো আপনার একটি ছেলে হয়েছে।
কী সুন্দরই না ছিল আমার ইডা!
আমি বুঝতে পারছি।

ভদ্রমহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন—আপনি কীভাবে বুঝলেন? আপনি তো ওকে দেখেননি।
আপনার এই ছেলেকে দেখেই বুঝতে পারছি বাকিরা কত সুন্দর ছিল। এ কথা বলেই তিনি জানালার কাছে সরে গেলেন। আশপাশে ধূসর ও স্যাঁতসেঁতে ভাব। এপ্রিলের বিকেল যেমন হয়ে থাকে। ওপাশের বাড়িগুলোর ছাদ দেখা যাচ্ছিল। সবগুলোই লাল রঙের। ছাদ চুয়ে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা মেঝের টাইলসে আছড়ে পড়ছিল।
ইডার তখন দুই বছর। কী মিষ্টি চেহারা! ফ্রক পরানো শুরু করেছি। এত সুন্দর লাগত যে সারাক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু এক অজানা আতঙ্ক সব সময় আমাকে তাড়া করত। এই বুঝি কোনো অঘটন ঘটবে। গুস্তাভকে হারিয়ে আমি প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম । ইডাকে তাই সব সময় চোখে চোখে রাখতাম। মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে হামাগুড়ি দিয়ে ইডার দোলনার কাছে যেতাম। ওর মুখের কাছে কান নিয়ে নিশ্বাসের শব্দ শুনতাম।
আপনি অনেক কথা বলেছেন। এবার একটু বিশ্রাম নিন।

ভদ্রমহিলার মুখটা সাদা, ফ্যাকাশে। রক্তশূন্যতা থাকলে যেমনটা দেখায়। সামান্য নীলাভ-ধূসর আভা দেখা যাচ্ছিল নাক আর মুখের আশপাশে। ভেজা চুলগুলো কপালের চামড়ার সাথে লেপটে রয়েছে। তিনি বলেই যাচ্ছিলেন— ইডা যখন মারা যায়, তখনো আমি সন্তানসম্ভবা। চার মাস চলছিল।  এ সন্তান আমি চাই না। ওকে আমি জন্ম দেব না। আর কোনো সন্তানকে আমি হারাতে পারব না।’ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে এভাবেই চিৎকার করছিলাম। কিন্তু আমার মাতাল স্বামী! মদের গ্লাস হাতে অতিথিদের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল…
তোমার জন্য খবর আছে, ক্লারা, ভালো খবর।’ আপনি ভাবতে পারেন ! আমরা সবে আমাদের তিন নম্বর সন্তানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আর সে মদের গ্লাস হাতে আমাকে বলছে ভালো খবর আছে।
আজই আমাকে ব্রানাউ বদলি করা হয়েছে। ব্যাগপত্র গুছিয়ে নাও। আমরা আবার নতুনভাবে সবকিছু শুরু করব। সেখানে নতুন নতুন ডাক্তার থাকবে। কোনো অসুবিধা হবে না।
আপনিই সেই নতুন ডাক্তার, তাই না?
হ্যাঁ।
আমার খুব ভয় করছে।
ভয়ের কোনো কারণ নেই।
আমার ছেলে কি বাঁচবে, ডাক্তার সাহেব?
আবার এসব ভাবছেন! এগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন ।
আমি পারছি না। নিশ্চয়ই আগের জন্মে কোনো পাপ করেছি। তার শাস্তি পাচ্ছি।
এভাবে ভাববেন না। এগুলো কুসংস্কার।
আপনি জানেন অটোর জন্মের পর আমার স্বামী আমাকে কী বলেছিল? অটো দোলনায় ঘুমাচ্ছিল। অটোকে দেখামাত্রই ও বলে উঠল, কেন প্রতিবারই এমন ছোট, দুর্বল বাচ্চা জন্ম দিচ্ছ তুমি!
কেউ এমনটা কীভাবে বলতে পারে!
ও অটোকে এমনভাবে দেখছিল, যেন ও কোনো শিশু নয়। একটি ছোট্ট পোকা। আর বলছিল, কেন ওরা আর পাঁচটা শিশুর মতো নয়! ঠিক তিন দিন পর অটো মারা যায়। সকালে ওর বাপ্টিজম দেওয়া হলো। আর বিকেল হতে না হতেই ও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। এরপর গুস্তাভ। তারপর ইডা। একে একে সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আচমকা আমার ঘরটা একদম খালি হয়ে গেল।
দয়া করে এসব ভেবে নিজেকে আর কষ্ট দেবেন না।
এই ছেলেটিও কি আর পাঁচটা নবজাতকের থেকে আকারে ছোট?
হয়তো ওর শরীর একটু ছোট। তবে এ নিয়ে এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখবেন, আকারে ছোটরাও অনেক সময় বড় কিছু করে ফেলতে পারে। ফ্রাউ হিটলারের কথাই ভাবুন একবার। আগামী বছর এ সময় আপনার ছেলে হাঁটতে শুরু করবে। সামনের দিন নিয়ে ভাবুন।
ভদ্রমহিলা কিছু বললেন না।
আর তারপর দুবছর হতেই কথা বলতে শুরু করবে। এটা-সেটা বলে বলে আপনাকে পাগল করে ফেলবে। কী নাম রাখবেন, ভেবেছেন কিছু?
নাম?
হ্যাঁ। নাম।
সেভাবে ভাবিনি। তবে ওর বাবা একবার বলেছিল, যদি ছেলে হয়, নাম রাখব অ্যাডলফাস।
তাহলে তো এখন থেকে ওকে অ্যাডলফ বলে ডাকতে হবে।
হ্যাঁ, আমার স্বামীর এই নামটি বেশ পছন্দ। ওর নামের সাথে মিল আছে কিনা! অ্যালোইস থেকে অ্যাডলফাস।
বাহ্!
অটোর জন্মের পরও ডাক্তার আমাকে এই প্রশ্নটি করেছিল। তার মানে অ্যাডলফাসকেও আমি হারাতে চলেছি। আপনি ওকেও একবারে বাপ্টিজম করতে যাচ্ছেন। হায় ঈশ্বর!—বলেই কাঁদতে শুরু করলেন তিনি।
তার কাঁধে হাত রেখে ডাক্তার বললেন, নিজেকে সামলান। এগুলো কুসংস্কার। শিশুদের নতুন নতুন নাম শুনতে আমার ভালো লাগে। এ জন্যই আপনাকে প্রশ্নটা করা। অ্যাডলফাস খুব সুন্দর নাম। আমারও অনেক পছন্দ হয়েছে। ওই তো…ওকে নিয়ে আসছে।
শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে হোটেলমালিকের স্ত্রী এগিয়ে এলেন। এই যে তোমার সুদর্শন! তুমি কি ওকে কোলে নিতে পারবে? নাকি তোমার পাশে শুইয়ে দেব’—তিনিও কাঁদছিলেন। আনন্দের কান্না।
শিশুটির গা সাদা পশমি শাল দিয়ে মোড়ানো। গোলাপি মাথাটা দেখা যাচ্ছিল। মায়ের পাশে শুয়ে দিয়ে তিনি বললেন, এই নাও। এবার মন ভরে ছেলেকে দেখো।’
মৃদু হেসে ডাক্তার বললেন, ফুটফুটে বাচ্চা হয়েছে।
ওর হাতগুলো যে কী সুন্দর! একদম লম্বা লম্বা সুক্ষ্ম আঙুল! হোটেলমালিকের স্ত্রী বললেন।
ভদ্রমহিলা একবারের জন্যও পাশ ফিরলেন না।
দেখো ওকে। ও কি তোমাকে খেয়ে ফেলবে! বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন হোটেলমালিকের স্ত্রী।
ভয় হচ্ছে আমার। আমার বিশ্বাস করতে ভয় হচ্ছে যে আমার একটি সুস্থ ছেলে হয়েছে। একটি সুস্থ্, সুন্দর ছেলে।
বোকার মতো কথা বোলো না।’
পাশ ফিরে ছেলের নির্মল মুখটা দেখে, এটা কি আমার ছেলে?
হ্যাঁ, তোমারই ছেলে।
ওহ্, কী সুন্দর!

তিনি টেবিলে পড়ে থাকা জিনিসগুলো গুছিয়ে ব্যাগে রাখলেন।ভদ্রমহিলা এবার ছেলেকে কোলে নিলেন। ছেলের হাসি দেখে তার দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে।
এই অ্যাডলফাস! আমার সোনা অ্যাডলফাস!
আমার মনে হয় তোমার স্বামী চলে এসেছে, বললেন হোটেলমালিকের স্ত্রী।
ডাক্তার দরজা খুলে করিডরে তাকাতেই তাকে দেখতে পেলেন।
হার হিটলার?
জি।
আসুন, আসুন, ভেতরে আসুন।
গাঢ় সবুজ ইউনিফর্ম পরা একটা বেঁটে লোক ঘরে ঢুকল। মুখে লম্বা গোঁফ। অনেকটা সম্রাট ফ্রাঞ্চ জোসেফের আদলে। গায়ে মদের কড়া গন্ধ।
অভিনন্দন, স্যার। আপনার ছেলে হয়েছে।
ছেলে?
জি।
কোথায় সে? কেমন আছে?
আপনার স্ত্রী এবং ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন।
বেশ।
ভদ্রলোক তার স্ত্রীর কাছে গেলেন।  তাহলে ক্লারা, শরীর কেমন এখন? খুশিমনে তিনি শিশুটিকে দেখতে লাগলেন। নিচের দিকে ঝুঁকে দেখতে গিয়ে এত নিচু হলেন যে শিশুটির মাথা থেকে তার মুখ মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিল। ভদ্রমহিলা সবটা দেখছিলেন।
হায় ঈশ্বর! আপনি এমনটা কেন করলেন!
কী হলো?
ও তো অটোর থেকেও ছোট হয়ে গেছে!
ডাক্তার দ্রুত এগিয়ে এসে, উত্তেজিত হবেন না। এটা খুব সাধারণ একটি বিষয়।
ভদ্রলোক উত্তেজিত হয়ে বললেন, মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়া বন্ধ করুন। আপনি কি জানেন আমার আগের সন্তানদের সাথে ঠিক কী হয়েছিল?
আপনি আমার কথা শুনুন। আপনাকে অতীত ভুলতে হবে। এই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন ।
দুর্বলের আবার ভবিষ্যৎ!
স্যার, সে আজ পৃথিবীর আলো দেখেছে।
তো?
তো কী করতে চাও তুমি। এখনই ওকে মেরে ফেলতে চাও?—বলেই আবারও কান্নায় ভেঙে পড়লেন হোটেলমালিকের স্ত্রী।
অনেক হয়েছে, রেগে গেলেন ডাক্তার।
ভদ্রমহিলা এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তার সারা শরীর কাঁপতে শুরু করে।
তার স্বামীর কাঁধে হাত রেখে ডাক্তার বললেন, ওনাকে সামলান। আপনার উচিত এখন ওনার পাশে থাকা। ওনাকে সান্ত্বনা দেওয়া।
ডাক্তার কাঁধ ধরে তাকে বিছানার কাছে ঠেলে দিলেন। বুড়ো আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন। ফলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাকে স্ত্রীর গালে চুমু খেতে হলো।
ঠিক আছে, ক্লারা, শান্ত হও এবার।
আমি ঈশ্বরের কাছে অনেক প্রার্থনা করেছি অ্যালোইস। মাসের প্রত্যেকটা দিন আমি গির্জায় গিয়েছি। হাঁটু গেড়ে ঈশ্বরকে ডেকেছি। বলেছি তিনি যেন ওকে শুধু বাঁচার অধিকারটুকু দেন।’
আমি জানি, ক্লারা।
তিন-তিনটে সন্তানকে হারিয়ে আমি কীভাবে বেঁচে আছি, সেটা কি তুমি বুঝতে পারছ না?
বুঝতে পারছি, ক্লারা।
ওকে বাঁচতে হবে, অ্যালোইস। ওকে বাঁচতেই হবে। বাঁচতেই হবে…
ঈশ্বর, ওকে বাঁচতে দিন…