খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে চৈত্র ১৪৩১ | ১ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিল। প্রতি বছর এই সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে, তবে এবারের পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মাসের শুরুতেই বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পাশাপাশি, এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি, বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধারা ও সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। মে মাসে গড় তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। তবে চলতি বছর এই গড় তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম পড়তে পারে। পূর্বাভাস বলছে, এ মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপপ্রবাহের মাত্রা নির্ধারণে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী—৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ, ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়।
কালবৈশাখী ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়
দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। পূর্বাভাস বলছে, এ মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে এক থেকে তিন দিন।
এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছরের উষ্ণতম পরিস্থিতি ও এ বছরের পূর্বাভাস
২০২৩ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। বাংলাদেশেও গত বছর তাপমাত্রা ছিল ৭৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা ৩৫ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছিল, যা দেশের জন্য নজিরবিহীন। এতে করে স্বাভাবিকের তুলনায় কালবৈশাখীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল। সাধারণত, এপ্রিল মাসে ৯ দিন এবং মে মাসে ১৩ দিন কালবৈশাখী হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৩ সালে মাত্র ২টি কালবৈশাখী হয়েছিল এপ্রিল মাসে, আর মে মাসে হয়েছিল ৪টি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এ বছর মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকতে পারে, যার ফলে কালবৈশাখীর সংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে একটানা দীর্ঘ তাপপ্রবাহ গত বছরের মতো নাও থাকতে পারে।
সতর্কতা ও করণীয়
তাপপ্রবাহের সময়ে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে প্রচুর পানি পান করা, সরাসরি রোদে কম বের হওয়া, হালকা পোশাক পরা এবং তাপমাত্রা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে, ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এপ্রিল ও মে মাস দেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং সময় হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকলেও, আগেভাগে সতর্কতা অবলম্বন করলে এর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
খবরওয়ালা/আরডি