খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
“হে লৌহিত্য, আমার পাপ হরণ করো”—এই মন্ত্রোচ্চারণে মহাষ্টমীর পবিত্র দিনে যমুনা নদীতে গঙ্গাস্নানে অংশ নিতে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীর ঢল নামে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এ দিনে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে জীবন থেকে পাপ, সংকীর্ণতা ও জাগতিক পঙ্কিলতা দূর হয়, মেলে মানসিক শুদ্ধি ও সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ীতে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো সরাতলা কালীমাতা মন্দিরের পাশে এই গঙ্গাস্নান উৎসব ও মেলার আয়োজন করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। উৎসব ঘিরে খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও গোবিন্দাসী গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় বসে নানা রকম পণ্যের পসরা। মিষ্টিজাত খাবার, বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাবপত্র, মাটির ও প্লাস্টিকের খেলনা, পুতুল, ঘোড়া, গাড়ি, হাড়ি-পাতিল, মাছ, দই, চিড়া-মুড়ির দোকানে থাকে জমজমাট বিকিকিনি। উৎসবে আসা পুণ্যার্থীরা এমন আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, কালিহাতী, সখীপুর, বাসাইল, ধনবাড়ী ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও সরিষাবাড়ী উপজেলার হাজারো নারী-পুরুষ পুণ্যার্থী উৎসবে যোগ দিতে খানুরবাড়ীতে সমবেত হন। নদীর পাড়জুড়ে ছিল পূর্ণ ভক্তিময় পরিবেশ।
গঙ্গাস্নানে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, তারা প্রতি বছর এই দিনে এখানে আসেন পবিত্রতা অর্জনে ও নিজের মনোবাসনা পূরণে মানত করতে। ভক্তরা স্নানের পাশাপাশি দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।
উৎসবে আসা ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রমা রানী দাস বলেন, ‘প্রতি বছর গঙ্গাস্নানে অংশ নেই। বিশ্বাস করি, এই দিনে স্নান করলে পাপ মোচন হয়।’
পুণ্যার্থী সন্তোষ কুমার দত্ত বলেন, ‘মনের শান্তির জন্য, নিজের ও সবার মঙ্গল কামনায় আমি প্রতি বছর এই স্নানে অংশ নিই।’
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ জানান, পুণ্যার্থীদের সেবা ও নিরাপত্তার জন্য ভোর থেকেই বিভিন্ন সহায়তা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্নানঘাটে পোশাক পাল্টানোর ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, ‘উৎসবে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
এই ধর্মীয় উৎসব শুধু একটি স্নান অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে সমাজে ধর্মীয় সহাবস্থান, শুদ্ধতার আকাঙ্ক্ষা ও সামগ্রিক মঙ্গল কামনার এক মহামিলনমেলা।
খবরওয়ালা/আরডি