গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পাঁচটি চালু ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পিএলসি’র আবাসিক প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চুরিকৃত ট্রান্সফর্মারগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন নেসকো পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত গত ২১ মার্চ তারিখের এক অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পলাশবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের ভেতর থেকে ৩টি এবং গাইবান্ধা ও রংপুর রোড এলাকায় আরও ২টি ট্রান্সফরমার ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আবাসিক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদের বিরুদ্ধে ট্রান্সফরমার চুরির সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পায় তিন সদস্যের একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন রংপুর নেসকো পিএলসি’র প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. আশরাফুল ইসলাম মন্ডল। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি ও চুরির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
নেসকো চাকরিবিধি, ২০২৩ এর ৮.১ (বি), (ডি) ও ৮.৯ (এ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগে মো. হারুন-অর-রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করে নির্বাহী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি নিয়মিত দপ্তরে হাজিরা দেবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মন্ডল। তবে তদন্ত কমিটির অন্য এক সদস্য মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, শুধু এই পাঁচটি নয়, আরও একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং এতে নেসকোর আরও কর্মকর্তার জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক মোশফেকুর রহমান মিল্টন এবং সদস্য সচিব সাংবাদিক মো. ফেরদাউছ মিয়া পুনঃতদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশীদ তার সঙ্গে যোগাযোগের সময় গণমাধ্যম প্রতিনিধির কাছে বিকাশ নম্বর চেয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন।
খবরওয়ালা/আরডি