খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫
আজ চৈত্রসংক্রান্তি বাংলা বছরের শেষ দিন। এই দিনটিকে চৈত্রসংক্রান্তি হিসেবে উদ্যাপন করা হয়। এ ছাড়াও আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, শুরু হবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২। পাহাড় থেকে সমতলে, শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র উৎসবের আমেজ।
আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ধারণ করে চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপন করে আসছে বাঙালি। এই দিনে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সূচনার প্রস্ততি নেয় জাতি। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উৎসবের মূল সূত্রপাত হয় এই দিন থেকেই।
চৈত্রসংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মচারীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। শিবের গাজন ও ধর্মের গাজন নামে পালাগানও অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। গাজন মূলত কৃষকদের উৎসব। চৈত্রের দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির জন্য চাষিরা পালার আয়োজন করে থাকেন, যা গাজন নামে পরিচিত। কিছু কিছু স্থানে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।
চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষ্যে গ্রামগঞ্জে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব হয়ে থাকে। বিশেষ করে হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় চৈত্রসংক্রান্তি।
চড়ককে চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব বলা হয়। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষ্যে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গি, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে।
এদিকে, পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে সোমবার (১৪ এপ্রিল) বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে। এদিন জরাজীর্ণতা, ক্লেশ ও বেদনার সবকিছুকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার থাকবে গোটা জাতি।
খবরওয়ালা/এসআর