খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত কবি রফিক আজাদের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির বাড়িটির একাংশ ভেঙে ফেলেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়িটির পশ্চিমাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
জানা গেছে, ধানমণ্ডির ১ নম্বর সড়কের ১৩৯/৪এ ঠিকানার বাড়িটিতে (পশ্চিমাংশ) কমবেশি ৫ কাঠা পরিমাণ জায়গা রয়েছে। বাড়িটিতে চারটি ইউনিট। এর একটিতে থাকছেন কবির স্ত্রী দিলারা হাফিজ। বাকি তিন ইউনিট অন্যদের নামে বরাদ্দ। বাড়িটির পূর্ব দিকের দুটি ইউনিট ভেঙে ফেলা হয়েছে।
কবির স্ত্রী অধ্যাপক দিলারা হাফিজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই আজ সকালে পুলিশ এসে বাড়ির পশ্চিম অংশ ভেঙে ফেলে। এরপর তারা আমাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসবাবপত্র ও জরুরি জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান মুলতবি করে।’
শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক হিসেবে বাড়িটির বরাদ্দ পেয়েছিলেন দিলারা হাফিজ। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ এবং সর্বশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসর নেন।
দিলারা হাফিজ বলেন, ‘বাড়িটি নিয়ে আদালতের স্টে অর্ডারও আছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিত্যক্ত ভবনটি আমাকে বসবাসের জন্য দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে আমরা এই ভবনে বসবাস করি৷ কবি রফিক আজাদের অধিকাংশ কবিতা এই ভবনে বসে লেখা।’
তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে রফিক আজাদ মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা তার স্মৃতি রক্ষার্থে এই ভবনটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে বারবার চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছি। তিনি আমাদেরকে জানান, এটা আইনের বিষয়, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। এরপর আমাদেরকে কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে আজ সকালে ভাঙার কাজ শুরু করে। তারা বাড়িটি ফাঁকা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেননি৷’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর বিভাগ-২ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৈয়ব-উর-রহমান আশিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অভিযানে কবি রফিক আজাদের বাড়িটি ভাঙা হয়নি। সেখানে চারটি একতলা ভবন রয়েছে, যার সবগুলো ভাড়াটিয়াদের দখলে। এর মধ্যে কবি রফিক আজাদের বাসভবনসহ দুটি ভবনের বিষয়ে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ আছে। আমরা রফিক আজাদের বাড়ির পেছনের দুটি ভবন ভেঙে ফেলেছি।’
তিনি বলেন, ‘কবি রফিক আজাদের বাসভবনের কোনো অংশ ভাঙা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, তার বাড়ির সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি