শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চিডারচর এলাকার কয়েকটি গ্রামে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। হঠাৎ করে নদীর ভাঙন শুরু হওয়ায় পুরো ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এই ইউনিয়নটি পদ্মার একেবারে মাঝের চর হওয়ায় পানি বাড়লেই শুরু হয় ভাঙন। গত ৬-৭ বছরে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামের কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও বহু বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে বর্ষার আগেই।
গত মৌসুমে মৃধা কান্দি, আমির মল্লিক কান্দি, আঃ মান্নান মল্লিক কান্দি, গনি মল্লিক কান্দি, বেপারী কান্দি, নুডু মাদবর কান্দি, বাবুরচর, আব্বাস বেপারী কান্দি, সরল খার কান্দিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। এবারও সেই সব এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে ভাটকুল বাজার, বাবুরচর বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কিন্ডারগার্টেনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
চিডারচরের গনি মল্লিক কান্দির বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম রতন মল্লিক বলেন, “অনেকবার আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে গেছে। এখন যদি আবার ভাঙে, তাহলে আর আমাদের কোনো জায়গা থাকবে না। আমরা চাই সরকার দ্রুত নদীতে বেড়িবাঁধ তৈরি করুক, তাহলে বাঁচতে পারবো।”
চরাঞ্চলের সমাজপতি এম.এ লতিফ মল্লিক বলেন, “পদ্মায় পানি বাড়লেই কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। এবারও তাই হয়েছে। স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, ফসলি জমি সব কিছু হুমকির মুখে। সরকার যেন অবহেলা না করে দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়।”
কুন্ডেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ.বি.এম লিয়াকত হোসেন মল্লিক বলেন, “বর্ষা আসার আগেই ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে পুরো ইউনিয়ন হারিয়ে যাবে। বেড়িবাঁধ ছাড়া এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব না।”
স্থানীয়দের একটাই দাবি—পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
খবরওয়ালা/এমবি