খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি না থাকার কারণে জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা যাচাইয়ে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিন। এতে জনগণ বুঝতে পারবে ইসির সদিচ্ছা কতটুকু।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে আমির বলেন, ‘একটা নির্বাচন কমিশন হয়েছে। তাঁরা বলেছেন তাঁরা নাকি ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো নির্বাচন উপহার দেবেন। আমরা তাঁদের একটি অ্যাসিড টেস্ট দেখতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যেটা দিয়ে পাঁচ বছর দেশ শাসন হবে, সেই নির্বাচনের আগে জনগণ এখন সাফার করছে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি না থাকার কারণে। আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা দিন। আমরা দেখি আপনাদের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা কতটুকু। এটার প্রমাণ আপনারা পেশ করুন।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনতে পারছি, সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে—নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ। মোট কর্তৃত্ব থাকবে নিম্নকক্ষের হাতে। সেটা বর্তমান পদ্ধতিতে। আর উচ্চকক্ষের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে পিআর সিস্টেমে। উচ্চকক্ষ যদি পিআর সিস্টেমের প্রয়োজন হয়, তাহলে নিম্নকক্ষ নয় কেন? একই দেশে দুই কক্ষের প্রয়োজনটা কী; দুনিয়ার ৬২টা দেশ পিআর সিস্টেমে নির্বাচন করে। সম্প্রতি ইউরোপ সফর করে এলাম, সেই ইউরোপের ২৬টা দেশের মধ্যে ১৬টা দেশ পিআর সিস্টেমে নির্বাচন করে। তারা যদি সেই সুফল ভোগ করতে পারে, তাহলে আমরা জাতিকে বঞ্চিত করার কে। সুতরাং এই অধিকার জাতির হাতে তুলে দিতে হবে। এটা যাঁরা মানবেন না, তাহলে বুঝতে হবে বিচার মানি তালগাছটা আমার। আমরা বলব, বিচার মানুন, রায়ে তালগাছ যার তার হাতে চলে যাবে। এবং সেই বিচারটা হতে হবে ন্যায়বিচার।’
তিনি বলেন, ‘নারী অধিকার সংস্কারের নামে সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা হয়েছে। সেই রিপোর্টের বেশ কিছু জায়গায় কোরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ খেলাপ কিছু সুপারিশ জমা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা এই সুপারিশ পেশ করেছেন, তাঁরা এ দেশের সাড়ে ৯ কোটি মায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাঁরা যে জায়গায় সমাজকে নিতে চান, সেটা হতে দেওয়া হবে না। প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরলেই এটি বাতিলের জন্য আহ্বান জানানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য রমজানে কিছুটা সহনীয় ছিল, মানুষ কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিল। এখন আবার উত্তপ্ত হচ্ছে। আমরা সরকারকে বলব সেদিকে নজর দিন।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘যারা সাড়ে ১৫ বছর এবং শেষ প্রান্তে এসে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের কাউকে আইনের বাইরে রাখবেন না। তাদের বিচার নিশ্চিত করুন। বিগত সরকার সাড়ে ১৫ বছরে যে জঞ্জাল সৃষ্টি করেছে, তার পর্যাপ্ত ন্যায়ানুগ সংস্কার করুন। কালো টাকা ও পেশিশক্তি থেকে বের হয়ে আসার জন্য সমস্ত মানুষের ভোট এবং সঠিক প্রতিনিধিত্ব সংসদে নিশ্চিত করার জন্য পিআর সিস্টেমে ভোট নিশ্চিত করতে হবে।’
মহানগর জামায়েতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী, নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক সাদেক আহমেদ, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা উত্তম ভট্টাচার্যসহ অন্যরা।
সম্মেলন সকাল ৯টায় শুরু হলেও ৭টা থেকে জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলে সার্কিট হাউস মাঠে জড়ো হন। ১১টার কয়েক মিনিট আগে মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদন জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো মাঠ। সাড়ে ১৭ বছর পর প্রকাশ্যে এমন বড় পরিসরে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে সবাই ছিলেন উচ্ছ্বসিত।
খবরওয়ালা/এসআর