সিরাজুম মুনীর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া)’র অনুষ্ঠাতব্য ১০ মে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা হলো ৷ গত ১ মে রুয়া এডহক কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তাজনিত অবস্থা বিবেচনায় ৯ মে পুনর্মিলনী ও ১০ মে নির্বাচন স্থগিত করা হয় ৷ ২২ এপ্রিল জনৈক জীবনসদস্য গঠনতন্ত্রের বিধিবহির্ভুতভাবে ভোটার তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনী তফশিল বাতিল করার পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করেন৷ ২৩ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী চেতনার দাবীদারের একটি অংশ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানায়৷
২৪ এপ্রিল শেষ দিনেও ঐ অংশ মনোনয়ন জমা দেয়নি ৷ এরমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় ৷ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ছিল ৭,৭৯৩ জন জীবনসদস্য ৷ উল্লেখ্য, কর্তৃপক্ষের জীবনসদস্য হওয়ার তারিখ পুনঃ:নির্ধারণের ফলে শেষ তিনদিনে আনুমানিক প্রায় চার হাজার প্রাক্তনী জীবনসদস্য ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সক্ষম হয়েছে ৷
এটা খুব স্বাভাবিক বা সাধারণ নয় বলে অনেকেই মনে করেছেন ৷ দেশব্যাপী এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ৷ এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিক্ষুন্ন হয়েছে ৷ জীবনসদস্যদের রেজিস্ট্রেশন ফি ছিল প্রতিজন ৫,০০০ টাকা ৷ রুয়া নির্বাচনকে অনেকেই “ভোট কেনা-বেচার নির্বাচন” বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷ প্রধানত: ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন ছাত্রদের বিরুদ্ধেই এ অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে ৷
১ মে এডহক কমিটির বৈঠকের সম্ভবত দুই/একদিন আগেই বিরাজমান পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও একজন নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করলেন ৷ নির্বাচন বর্জনের পক্ষে বিপক্ষে মিছিল সভা সমাবেশ চলতে থাকলো ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টারের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরিত হলো ৷
ঠিক এরকম এক অবস্থায় ১ মে রুয়া এডহক কমিটির বৈঠকে ৯ মে পুনর্মিলনী ও ১০ মে নির্বাচন স্থগিত করা হলো৷ রাবি ভিসি মহোদয় ও প্রোভিসি মহোদয়গণ উপস্থিত ছিলেন ৷ প্রোভিসি জনাব ফরিদ উদ্দিন খান ৩১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ৷
এডহক কমিটির সদস্য হিসেবে আমিও ছিলাম উপস্থিত ৷ রুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাক্তনীগন অনেকেই ভাবছেন গভীরভাবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া হোক বা সর্বজন গৃহীত সিদ্ধান্তই হোক, জীবনসদস্য করার “শেষ তারিখ পিছানো”র মধ্য দিয়েই যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সবাই স্বীকার করবেন ৷ কেননা শেষের তিন দিনেই হাজার হাজার জীবনসদস্য ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে ৷ এই হাজার হাজার ভোটার বিশ্লেষণ করলে ইসলামি ছাত্রশিবিরের প্রাক্তনীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোটেই অমূলক নয় ৷
রুয়া’র নির্বাচন নিয়ে আজকে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তা প্রধানত: জীবনসদস্য করার “শেষ তারিখ পিছানো”র মধ্য দিয়েই ৷ ঐ সিদ্ধান্ত কার বা কাদের প্ররোচনায় হয়েছে, শক্ত কোনো চাপ ছিল কিনা, সে চাপ উপরিমহল নাকি নিম্নমহলের চাপ, তা পর্যালোচনা করার বোধহয় প্রয়োজন নেই ৷
তবে আমাদের সকলের ঐ সিদ্ধান্ত যে ভুল হয়েছে, তা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে ৷ ভুল হতেই পারে৷ সকলে মিলেও ভুল করতে পারে ৷ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোলে ভুলই বিকশিত হবে৷ কথায়ই তো আছে, ভুলের মাশুল দিতে হয়৷ তবে সঠিক পর্যালোচনা না করে এগোলে ভুলের মাশুল গুনতে হয় গুনে গুনে বহুগুণ ৷
জীবনসদস্যগণ বহুভাবে বিরক্তি অস্বস্তি অনাস্থা প্রকাশ করে মন্তব্য করছে ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব মন্তব্য উপেক্ষা করার মতো নয়৷ আর উপেক্ষা করবোই বা কেনো? কথা বলুক সকলে৷ মতের প্রবাহ বাড়ুক সকলের মেধা ও মননে৷ ফুটুক শত ফুল ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্যপ্রবাহে অসংখ্য নেতিবাচক মন্তব্য বাদে যে-সব পরামর্শ আসছে, তা হলো;
১. সকলের সাথে সমঝোতা করে দ্রুত পুনর্মিলন ও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ৷
২. সকলের সাথে সমঝোতা করে নির্বাচন না করে একটি প্যানেল তৈরি করে রুয়া কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা৷
৩. বিরাজমান এডহক কমিটিকে পুনর্গঠন করে আগামী চার/পাঁচ বছরের জন্য রুয়া কার্যকরী কমিটি হিসেবে ঘোষণা করা ৷
৪. জীবনসদস্য রেজিস্ট্রেশন শেষের তিনদিনের রেজিস্ট্রিকৃত সদস্যদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা ৷ সোশ্যাল মিডিয়ার এসব পরামর্শ গুরুত্ব না দেয়াই যেতে পারে ৷ তবে জনমনোভাব হিসেবের মধ্যে রাখা অমঙ্গল নয়৷
মুখ্য কথা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার প্রশ্ন ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা উচ্চশিক্ষিত ভোটার ও প্রার্থীদের কাছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চাই আশা করছে মানুষ৷ রুয়া নির্বাচনকে “ভোট কেনা-বেচার নির্বাচন” বলে তিরস্কার মেনে নেয়া যায় না ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির প্রশ্নে আমরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে পারি না। প্রকৃত অর্থেই যে-সব কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হলো, তা অনুসন্ধান করা আমাদের কর্তব্য ।
লেখক, রাবি জীবন সদস্য-৩১৫