খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় রাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় প্রশাসনের সমালোচনাও করেন তাঁরা
তাঁদের দাবিগুলো হলো—আগামী তিন দিনের মধ্যে রাকসুর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে; ২৮ এপ্রিল ২০২৫ সালের পর যাঁরা ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না; নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও রাকসু নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে; নির্বাচন কমিশনকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করতে হবে; এর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও বাইক চলাচল সীমিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়িত না হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘সোচ্চার স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম সালমান সাব্বির। তিনি বলেন, ‘৩৬ বছর ধরে রাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। চব্বিশের আন্দোলনের পরও শিক্ষার্থীরা তাদের এই রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাননি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঘোষিত ৯ দফা দাবির অন্যতম ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির অবসান। অথচ রাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।’
সালমান সাব্বির বলেন, ‘রাকসুর ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। ২৮ এপ্রিল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। তবে আজ পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকানো হয়েছে বলেই আমরা মনে করছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব ছিল, শুধু তারাই রাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। এটি করা না হলে তা হবে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে রাকসু নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত সেই কমিটি সভা করতে পারেনি। এ ছাড়া গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মুখোমুখি অবস্থান ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করছে এবং নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি করছে।’
রুয়া (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা রাকসু নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না, এই প্রশ্নে বক্তারা বলেন, ‘রুয়া হলো সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন আর রাকসু বর্তমান শিক্ষার্থীদের। রুয়ার নির্বাচন যেভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে, রাকসুর ক্ষেত্রেও একইভাবে বাধা তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব, সালাহউদ্দিন আম্মার, ফজলে রাব্বি, ফাহিম রেজা, আকিল বিন তালেব, তাসীন খান, মাহায়ের ইসলাম, ফৌজিয়া নওরীন, আতাউল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
খবরওয়ালা/এসআর